ইসকন সন্ন্যাসীর হারানো ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ, স্বস্তির নিঃশ্বাস এগরার ভক্তমহলে

ইসকন সন্ন্যাসীর হারানো ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার, রথযাত্রার অনুদান ফিরিয়ে দিল পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশ
এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৪ জুলাই, ২০২৫: রথযাত্রায় ভক্তদের দান করা সাত লক্ষ টাকাভর্তি ব্যাগ হারিয়ে ফেলেন ইসকনের এক সন্ন্যাসী। টাকা হারানোর দুশ্চিন্তায় তাঁর ঘুম উড়ে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস, তৎপরতার সঙ্গে সেই টাকা সমেত ব্যাগ উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশ। রবিবার এগরার এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ইসকন প্রতি বছরই অত্যন্ত ধুমধাম করে রথযাত্রা পালন করে থাকে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিপুল ভক্ত সমাগম হয়েছিল এবং ভক্তরা উদার হাতে দানও করেছিলেন। গত ৭ই জুলাই ইসকনের সন্ন্যাসী মহাবীর মধুসূদন দাস রথযাত্রায় সংগৃহীত সেই দানের সাত লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। বাইকে করে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত টাকাভর্তি ব্যাগটি রাস্তা পড়ে যায়। মধুসূদন দাস বিষয়টি প্রথমে টেরও পাননি। যখন তাঁর খেয়াল হয়, তখন মাথায় হাত। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এগরা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই টাকা উদ্ধারে তল্লাশি শুরু হয়।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার, বাইক আরোহীর সততা
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এগরা থানার আইসি অরুণ কুমার খাঁয়ের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হারানো টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। টাকার ব্যাগের মধ্যে একটি চেকবুকও ছিল, সেটিও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একজন বাইক আরোহী ওই টাকাভর্তি ব্যাগটি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। বাইকের নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে এবং তাঁর কাছ থেকে সাত লক্ষ টাকা ও চেকবুকটি উদ্ধার করে।

এসডিপিও দেবীদয়াল কুণ্ডু এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরেই এগরা থানার টিম তদন্ত শুরু করে। এক বাইক আরোহী টাকা ভর্তি ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। বাইকের নম্বর দেখে তাঁকে খুঁজে বের করা হয়। তাঁর কাছ থেকেই উদ্ধার হয় টাকা এবং চেকবুক।”

টাকা হারিয়ে ইসকনের সন্ন্যাসীরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে হারানো টাকা অক্ষত অবস্থায় ফেরত পেয়ে তাঁরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দ্রুততার সঙ্গে টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এই ঘটনা পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং একজন সাধারণ মানুষের সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।