শ্রাবণে শিবভক্তদের জন্য সুখবর, চালু পূর্ব রেলের বিশেষ EMU ট্রেন পরিষেবা

শ্রাবণ মাস মানেই শিবভক্তদের ভিড়ে উপচে পড়ে তারকেশ্বর। এই পবিত্র মাসে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমান শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢালতে, বিশেষ করে সোমবারগুলিতে। ভক্তদের এই বাঁধভাঙা ভিড় সামাল দিতে এবং তাঁদের যাত্রা আরও সহজ করতে পূর্ব রেলওয়ে এক দারুণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই বছর শ্রাবণ মাস জুড়ে, বিশেষত রবিবার, সোমবার এবং উৎসবের দিনগুলিতে হাওড়া, শেওড়াফুলি ও তারকেশ্বরের মধ্যে বিশেষ ইএমইউ (Special EMU Trains) লোকাল ট্রেন চালানো হবে।
ভক্তদের সুবিধার্থে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবা
পূর্ব রেলের ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশেষ ট্রেনগুলি সমস্ত স্টেশনে থামবে এবং যেকোনো স্টেশন থেকে টিকিট কাটা যাবে। এর ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হবে।
বিশেষ ট্রেনগুলি যে তারিখগুলিতে চলবে:
১৭.০৭.২০২৪, ২১.০৭.২০২৪, ২২.০৭.২০২৪, ২৮.০৭.২০২৪, ২৯.০৭.২০২৪, ০৪.০৮.২০২৪, ০৫.০৮.২০২৪, ১১.০৮.২০২৪, ১২.০৮.২০২৪, ১৫.০৮.২০২৪, ১৮.০৮.২০২৪ এবং ১৯.০৮.২০২৪।
শেওড়াফুলি – তারকেশ্বর রুটে EMU স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি:
শেওড়াফুলি থেকে ছাড়বে: সকাল ০৬:৫৫, সকাল ০৯:২০, বিকেল ১৬:২০, রাত ১৯:৪০
তারকেশ্বরে পৌঁছাবে: সকাল ০৭:৪৫, সকাল ১০:১৫, বিকেল ১৭:১০, রাত ২০:৩০
তারকেশ্বর থেকে ছাড়বে: সকাল ০৫:৫৫, সকাল ০৮:১০, দুপুর ১৪:৫০, সন্ধ্যা ১৮:৪০
শেওড়াফুলিতে পৌঁছাবে: সকাল ০৬:৪৫, সকাল ০৯:০৩, বিকেল ১৫:৪০, রাত ১৯:৩০
হাওড়া – তারকেশ্বর রুটে EMU স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি:
হাওড়া থেকে ছাড়বে: সকাল ০৪:০৫, দুপুর ১২:৫০
তারকেশ্বরে পৌঁছাবে: সকাল ০৫:৩৫, দুপুর ১৪:২০
তারকেশ্বর থেকে ছাড়বে: সকাল ১০:৫৫, রাত ২১:১৭
হাওড়ায় পৌঁছাবে: দুপুর ১২:৩০, রাত ২২:৪৫
নির্বিঘ্ন যাত্রার আশ্বাস
পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবার ফলে ভক্তরা একদিকে যেমন কম খরচে ও নিরাপদে তারকেশ্বরে পৌঁছাতে পারবেন, তেমনই যানজট এবং দূরপাল্লার যানবাহনের উপর চাপও কমবে। যারা শেওড়াফুলি থেকে পায়ে হেঁটে জল নিয়ে যাত্রা করেন, তাঁদের জন্যও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ থাকছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠু ট্রেন চলাচল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত কর্মী ও নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভক্তদের অনুরোধ করা হয়েছে যেন তাঁরা সময় মেনে স্টেশনে উপস্থিত হন এবং যাত্রাপথে ট্রেনের নিয়মাবলী মেনে চলেন। এই পদক্ষেপের ফলে শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বরের তীর্থযাত্রা নিঃসন্দেহে আরও সুগম হবে।