কর্মব্যস্ত জীবনেও শরীরচর্চা, ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ থাকার সহজ কৌশল!

বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আলাদা করে শরীরচর্চার জন্য সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। সকালে অফিসে ছুটে যাওয়া, কিংবা ঘরের কাজ করতে করতে দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যাওয়া— এই সবের মাঝে শরীরচর্চা যেন এক দিবাস্বপ্ন হয়েই থেকে যায়। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালে রোজকার কাজের ফাঁকেই সেরে নেওয়া যায় এমন কিছু কাজ, যা কোনো অংশেই ব্যায়ামের চেয়ে কম নয়। আসুন জেনে নিই এমন কিছু সহজ কৌশল, যা আপনাকে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে।

ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে দৈনন্দিন কাজ
১. বাগান করা: বাগান করা কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো নয়, এটি একটি চমৎকার শারীরিক ব্যায়ামও বটে। ‘জার্নাল অফ হেল্থ সাইকলজি’-তে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞানপত্রে বলা হয়েছে, বাগান করলে মানসিক চাপ কমে এবং মেজাজ ভালো থাকে। পাশাপাশি, গাছপালার পরিচর্যা করার সময় অসংখ্যবার ওঠা-বসা করতে হয়, যা পায়ের পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে তোলে। নিচু হয়ে মাটি কোপানো, গাছ লাগানো বা আগাছা পরিষ্কার করার সময় আপনার কোমর ও পিঠের পেশিগুলোও সক্রিয় থাকে।

২. রান্নার কাজ: রান্নাঘরের কাজও হতে পারে আপনার ব্যায়ামের অন্যতম উৎস। যদি আপনার শিলনোড়া ব্যবহারের অভ্যাস থাকে, তবে তাতে হাতের চমৎকার ব্যায়াম হয়। শিলনোড়ার মাধ্যমে মশলা পেষার সময় হাতের পেশিগুলোতে ভালো চাপ পড়ে, যা শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও, নিয়মিত ময়দা মাখলেও কাঁধ ও হাতের পেশিগুলো মজবুত হয়, বিশেষ করে বাইসেপ পেশিগুলো।

৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ঘরদোর পরিষ্কার করা একটি দারুণ ক্যালোরি পোড়ানোর উপায়। এখন অনেকের বাড়িতে ওয়াশিং মেশিনে কাপড় শুকিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, চাইলে ‘ড্রাই’ করার ব্যবস্থা ব্যবহার না করে হাতে কাপড় নিংড়ে নিতে পারেন। কাপড় নিংড়ানোর ফলে হাতের পেশিতে যে চাপ পড়ে, তা থেকে হাতের ভালো ব্যায়াম হতে পারে। একইভাবে, ফুলঝাড়ু দিয়ে ঘর পরিষ্কার করার সময় কাঁধের পেশির ভালো ব্যায়াম হয়। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ঘর পরিষ্কার করলেও ক্যালোরি ঝরে, বিশেষ করে যদি আপনাকে অনেক নড়াচড়া করতে হয়।

৪. ঘর মোছা: ঘর মোছা সবচেয়ে ভালো ব্যায়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাটিতে বসে হাত দিয়ে ঘর মুছলে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম হয়। এতে হাত, পা এবং পেটের পেশিতে চাপ পড়ে এবং তারা শক্তিশালী হয়। এটি এক প্রকারের ‘প্ল্যাঙ্ক’ এর মতো কাজ করে, যা কোর মাসেলকে শক্তিশালী করে। যদি মাটিতে বসে মোছা সম্ভব না হয়, তবে মপ ব্যবহার করুন; সে ক্ষেত্রে হাতের ভালো ব্যায়াম হবে।

৫. গাড়ি পরিষ্কার: যাদের গাড়ি রয়েছে, তারা যদি নিয়ম করে নিজেদের গাড়ি পরিষ্কার করেন, তবে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩৪ ক্যালোরি ঝরতে পারে। গাড়ি ধোয়া, মোছা, এবং পালিশ করার সময় গোটা শরীরেরই পরিশ্রম হয়, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কআউটের কাজ করে।

দৈনন্দিন জীবনের এই ছোট ছোট কাজগুলোকে যদি একটু ভিন্ন চোখে দেখা যায়, তাহলে ব্যায়ামের জন্য আলাদা করে সময় বের করার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এতে আপনার শরীরও সুস্থ থাকবে, আর মনও থাকবে ফুরফুরে।