সাবধান! গরম খাবার খেয়ে জিহ্বা পুড়ে গেলে দ্রুত করুন এই ঘরোয়া প্রতিকার

গরম খাবার খেতে গিয়ে জিহ্বা পুড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। এই ছোট দুর্ঘটনাটি সাময়িকভাবে প্রচণ্ড অস্বস্তি আর জ্বালাপোড়া তৈরি করে, যার ফলে কিছু খাওয়া বা পান করাও কঠিন হয়ে পড়ে। জিহ্বায় ব্যথা, খড়খড়ে ভাব, এমনকি মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা মুখে দুর্গন্ধের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই গরম খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। তবে যদি জিহ্বা পুড়েই যায়, তাহলে দ্রুত কিছু ঘরোয়া টিপস মেনে চললে এই জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। দেরি না করে জেনে নিন সেই উপায়গুলো:
জিহ্বা পোড়ার পর যে সমস্যাগুলো হতে পারে:
জিহ্বা পুড়ে গেলে শুধু জ্বালাপোড়াই হয় না, আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন:
মুখে শুকনো ভাব
জলশূন্যতা
মুখে দুর্গন্ধ
দাঁত ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি
জিহ্বার জ্বালাপোড়া কমানোর ঘরোয়া উপায়:
জিহ্বার জ্বালাপোড়া থেকে স্বস্তি পেতে নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করতে পারেন:
বরফ: পুড়ে যাওয়া জিহ্বার জ্বালাপোড়া কমাতে বরফের টুকরো অত্যন্ত কার্যকর। একটি বরফের টুকরো সরাসরি জিহ্বার ওপর রাখতে পারেন। এছাড়া, ঠাণ্ডা জল মুখে নিয়ে কয়েকবার কুলি করলেও দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এতে জ্বালাপোড়া কমে যাবে এবং আপনি মুখে আরাম বোধ করবেন।
মধু: মধুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং প্রদাহরোধী উপাদান, যা জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিও প্রতিহত করে। অল্প পরিমাণে মধু জিহ্বার পোড়া অংশে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন।
দই: পুড়ে যাওয়া জিহ্বার জ্বালাপোড়া কমাতে ঠাণ্ডা দই বা যেকোনো ঠাণ্ডা দুগ্ধজাত দ্রব্য বেশ উপকারী। দই দ্রুত শীতলতা প্রদান করে এবং আরাম দেয়। এই সময় ঠাণ্ডা জিনিস খেলে তা দ্রুত স্বস্তি দেবে।
ঠাণ্ডা জল দিয়ে কুলি: জিহ্বার জ্বালাপোড়া কমাতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ঠাণ্ডা জল মুখে নিয়ে কুলি করা। এটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করুন। দেখবেন দ্রুত আরাম পাবেন।
অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা জেল ব্যথা কমাতে এবং জিহ্বার ভেতরে একটি ঠাণ্ডা অনুভূতি আনতে দারুণ কাজ করে। তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে সরাসরি পোড়া জায়গায় লাগান অথবা জেলটি মুখের মধ্যে প্রায় ২৫ মিনিট রেখে দিন। দিনে কয়েকবার এটি করা যেতে পারে। তবে, যদি এতেও ব্যথা না কমে বা অবস্থার অবনতি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।