রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ ও পরিত্রাণের উপায়!

বর্তমান জীবনযাপন ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। বেশিরভাগ চিকিৎসকই মনে করেন, যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খান, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এছাড়াও, অতিরিক্ত মদ্যপানও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে গাঁটের ব্যথা প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। এটি মূলত হাড় ও কিডনির ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। তবে, খাদ্যাভ্যাসে বদল আনার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অনেকেই অজান্তেই ইউরিক অ্যাসিডে আক্রান্ত হন এবং এর লক্ষণ বা কারণ সম্পর্কে অবগত থাকেন না।

কীভাবে বুঝবেন আপনার রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে?
বিশেষজ্ঞরা দুটি প্রধান লক্ষণের কথা বলছেন, যা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়েছে কিনা:

১. ঘনঘন প্রস্রাব: ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে ঘনঘন প্রস্রাব হয়। কারণ কিডনি চায় শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে। এক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অত্যধিক বাড়লে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও বের হতে পারে। এছাড়াও, ইউটিআই (UTI) বা প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: এই সমস্যা বাড়লে প্রস্রাবের সময় জ্বালা হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড জ্বালাভাবের কারণে অনেকেই প্রস্রাব করতে চান না। এর থেকে আবার কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রস্রাবের যে কোনো সমস্যা হলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে যা যা খাবেন না:
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত:

কফি, কোমল পানীয়, মদ ও ধূমপান পরিহার করুন।
পালংশাক, পুঁইশাক, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, ঢ্যাঁড়স, টমেটো ইত্যাদি সবজি না খাওয়াই ভালো।
অতিরিক্ত প্রোটিন যেমন- খাসির মাংস ও সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে চলুন।
বিভিন্ন রকম ডাল খাওয়াও ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য ভালো নয়।
যারা অতিরিক্ত ওজনে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বাড়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। তাই সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি শরীরচর্চা করাও জরুরি।