চিয়া সিড কি সত্যিই ফ্যাট কমায়? ফিটনেস কোচের চমকপ্রদ তথ্য!

সাম্প্রতিক সময়ে চিয়া সিড একটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে ভরপুর এই ছোট বীজ স্বাস্থ্য সচেতনদের খাদ্যতালিকায় অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, চিয়া সিড বাড়তি ফ্যাট কমাতেও দারুণ কার্যকরী। কিন্তু এই ধারণা কি সত্যি? এই বিষয়ে ফিটনেস কোচ র‍্যালস্টন ডি’সুজা তার ইনস্টাগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা অনেকের ধারণাকেই পাল্টে দিতে পারে।

ফ্যাট কমানো এবং ওজন কমানো কি একই জিনিস?

প্রথমেই র‍্যালস্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। অনেকেই ফ্যাট কমানো এবং ওজন কমানোকে একই মনে করেন, কিন্তু এই দুটি ধারণার অর্থ ভিন্ন। ফ্যাট কমানো বলতে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস বোঝায়, যেখানে ওজন হ্রাস হলো শরীরের সামগ্রিক ওজনের পরিবর্তন। অর্থাৎ, মাংসপেশী, জল বা চর্বি— যে কোনো কিছুর হ্রাসই ওজন হ্রাসের কারণ হতে পারে।

চিয়া সিড কি সত্যিই ফ্যাট কমাতে কাজ করে?

র‍্যালস্টন ডি’সুজার মতে, যদি আপনার খাদ্যতালিকায় অন্য কোনো পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র চিয়া সিড যোগ করেন, তাহলে বরং আপনার ফ্যাট বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, চিয়া সিড অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ফাইবারে ভরপুর। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী। তবে, একই সাথে চিয়া সিড ক্যালোরি-সমৃদ্ধও।

ফিটনেস কোচ জানান, ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে প্রায় ৫০০ ক্যালোরি পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই চিয়া সিড স্বাস্থ্যকর হলেও, এর পরিমাণ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকা জরুরি। তিনি আরও যোগ করেন, ফ্যাট কমানোর জন্য ক্যালোরি গ্রহণ কমানো অপরিহার্য। তাই যখনই ক্ষুধার্ত বোধ করবেন, তখনই সবকিছুর সাথে চিয়া সিড যোগ করলে তা কার্যকরী হবে না।

র‍্যালস্টনের মতে, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখতে হলে কেবল একটি খাবারের উপর নির্ভর না করে আপনার সম্পূর্ণ খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামই ফ্যাট কমানোর মূল চাবিকাঠি। চিয়া সিড স্বাস্থ্যকর উপাদানের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি নিজেই ফ্যাট কমানোর জাদুকরী সমাধান নয়।