রাতে ঘুমে হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান? কেন হয় এমন, আর মুক্তি মিলবে কীসে?

রাতের বেলা শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন, হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান – অসহ্য ব্যথায় ঘুম ভেঙে যায়। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে অনেকেরই। ব্যথার কারণে পা সোজা বা ভাঁজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু কেন এমন হয়, আর এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী?

পেশিতে টান লাগার কারণ
আমরা যখন হাত বা পায়ের মাংসপেশী নিজেদের ইচ্ছামতো সংকুচিত বা প্রসারিত করি, তখন নড়াচড়া করতে পারি। কিন্তু যখন আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হঠাৎ কোনো পেশী সংকুচিত হয়ে যায়, তখন সেখানে খিঁচুনি বা টান তৈরি হয়। এই অবস্থাকেই আমরা ‘পেশীতে খিল ধরা’ বা ‘রগে টান লাগা’ বলে থাকি।

সাধারণত নিম্নলিখিত কারণে এই সমস্যা দেখা যায়:

জলশূন্যতা: শরীরে জলের অভাব হলে পেশিতে টান লাগতে পারে।
স্নায়ু বা মাংসপেশীতে আঘাত: পূর্বে কোনো আঘাত থাকলেও এমন হতে পারে।
খনিজ উপাদানের অভাব: রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের অভাব এই সমস্যার অন্যতম কারণ।
কিছু ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া: কিছু নির্দিষ্ট ঔষধের প্রভাবেও এমন হতে পারে।
ভিটামিনের অভাব: বিশেষ করে ‘বি’ ভিটামিন (B1, B5, B6) এর অভাবে পেশিতে টান লাগতে পারে।
অন্যান্য কারণ: ধূমপান, মদ্যপান, হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওর, মেন্সট্রুয়েসন (ঋতুস্রাব), গর্ভসঞ্চার ইত্যাদি কারণেও এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
অতিরিক্ত পরিশ্রম: অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারণেও পায়ের পেশিতে এভাবে টান লাগতে পারে।
রক্ত চলাচল কমে যাওয়া: ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কমে যায় বলে সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই পায়ে টান লাগে। একই কারণে ডায়াবেটিক ও কোলেস্টেরলের রোগীদেরও পায়ে ব্যথা হয়।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন স্নায়ুতে চাপ পড়ার কারণে পায়ে প্রায়ই টান লাগে।
পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার: পায়ের পেশির দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ব্যবহার, একভাবে দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকাও এর কারণ হতে পারে।
পেশীতে খিল ধরলে কী করবেন?
পেশীতে টান লাগা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। পা সোজা করতে গেলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে। এমন অবস্থায় দ্রুত উপশমের জন্য যা করতে পারেন:

দ্রুত শিথিলকরণ (প্রসারিত করা): আক্রান্ত পেশীকে দ্রুত প্রসারিত করার চেষ্টা করুন। এটি আক্রান্ত ব্যক্তিকে অতি দ্রুত আরাম দিতে পারে।
যদি হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনে টান লাগে: পা সোজা করে ফেলুন, হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরুন এবং আপনার দিকে টানুন।
যদি উরুর সামনের দিকে হয়: পা ভাঁজ করে ফেলুন, হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরুন এবং আপনার নিতম্বের দিকে টানুন।
যদি উরুর পেছনে খিল লাগে: চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা ভাঁজ করে হাঁটু যতটুকু পারবেন বুকের দিকে নিয়ে আসুন। ধীরে ধীরে উরুর পেছনের পেশীতে হালকা মালিশ করুন।
তাপ চিকিৎসা: পেশী শক্ত হয়ে বসলে গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
ঠাণ্ডা সেঁক: পেশী যদি নরম, ব্যথাযুক্ত আর ফুলে যায়, তাহলে ঠাণ্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
মালিশ: বাম বা জেল দিয়ে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করা যেতে পারে।
ইলেক্ট্রোলাইটিক ড্রিঙ্ক: ওরাল স্যালাইন-এর মতো ইলেক্ট্রোলাইটিক ড্রিঙ্ক পান করতে পারেন।
দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকতে যা করবেন:
সুষম খাদ্য: দীর্ঘ মেয়াদে ভালো থাকতে শাকসবজি, ফল, দুধ, মাংস এবং খেজুর পর্যাপ্ত পরিমাণে খান। এই খাবারগুলোর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
নেশা ত্যাগ: ধূমপান বা মদ্যপানের মতো নেশা থাকলে তা বাদ দিতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে যদি সমস্যাটি ঘন ঘন হতে থাকে বা খুব তীব্র হয়।