কর্মব্যস্ত জীবনে ডিম কতটা উপকারী? জেনে নিন ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও কোলেস্টেরল বিতর্ক!

কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততার মাঝে খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম নিত্যদিনের ঘটনা। আমাদের খাদ্যতালিকায় ডিম একটি সহজলভ্য ও অত্যন্ত পুষ্টিকর আমিষ জাতীয় খাদ্য। এটি শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ডিম খেলে কি রক্তের চর্বি বাড়ে, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে বা ওজন বেড়ে যায়? ডাক্তার ও গবেষকরা কিন্তু ভিন্ন কথা বলছেন। ছোট্ট একটি ডিম নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। আসুন, জেনে নিই প্রতিদিন একটি ডিম খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায় এবং ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী।
ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ইবনে সিনা হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ জেসমিন আক্তার ডিম খাওয়ার কিছু সহজ ও কার্যকর নিয়ম জানিয়েছেন:
১. ভিনিগারে ভেজানো ডিম: সিদ্ধ ডিম আগের দিন রাতে ভিনিগারে ভিজিয়ে রাখুন। সারারাত ভিনিগারে ভেজার পর সকালে নিশ্চিন্তে সেটি খেয়ে নিন।
২. দারুচিনি সহযোগে ডিম: রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুচিনি অত্যন্ত কার্যকরী। এটি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিনের খাবার, কিংবা চা বা গরম জলে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। সিদ্ধ ডিমে সামান্য দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন।
৩. প্রোটিন ও নিউট্রিয়েন্টস: ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং পুষ্টি দ্রব্য। শুধু তাই নয়, ডিমে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই সব পুষ্টিগুণ মিলে আমাদের শরীরে তৈরি হয় ‘গুড কোলেস্টেরল’। তাই শরীরে কোলেস্টেরল আর ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক পদ্ধতি মেনে ডিম খান।
ডিম ও কোলেস্টেরল বিতর্ক: গবেষণা কী বলছে?
সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, যারা সপ্তাহে তিনটি অথবা তার বেশি ডিম খান অথবা প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ডায়েটারি কোলেস্টেরল গ্রহণ করেন, তাদের হৃদপিণ্ডের সমস্যায় ভোগার এবং অকালে মৃত্যুবরণ করার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ২ হাজার ৯০০ মানুষের ওপর ১৭ বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করে এই গবেষণাটি করা হয়। গবেষকরা ছয়টি স্টাডি গ্রুপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ডায়েটারি কোলেস্টেরল গ্রহণ করেছেন, তাদের অন্যদের তুলনায় হৃদপিণ্ডের রোগের ঝুঁকি ৩.২% বেশি এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ৪.৪% বেশি থাকে। তবে শুধু ডিম খেলেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে তা কিন্তু নয়। গবেষকরা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার ক্ষেত্রে ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম না করা – এই বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, কোলেস্টেরলের ঘাটতি পূরণে ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিম খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন, তবে সেটি অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে।
উপসংহার:
ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার, তবে সবকিছুর মতোই এটিও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। সঠিক নিয়ম মেনে ডিম খেলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা ঝুঁকির কারণও হতে পারে। আপনার খাদ্যতালিকা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।