কোয়েলের ডিম: মুরগির ডিমের চেয়েও কি বেশি পুষ্টিকর?

আমরা অনেকেই কোয়েলের ডিম বেশ পছন্দ করি, কিন্তু এই ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে হয়তো সম্পূর্ণ জানি না। পৃথিবীতে যত প্রকার খাদ্য উপযোগী ডিম আছে, তার মধ্যে কোয়েল পাখির ডিম গুণ, মান এবং পুষ্টিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত। ৪০ বছর পার হলেই অনেক চিকিৎসক মুরগির ডিম খেতে নিষেধ করে থাকেন, কারণ নিয়মিত মুরগির ডিম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

অথচ কোয়েলের ডিম যেকোনো বয়সের মানুষ, অর্থাৎ বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত, নিঃসংকোচে খেতে পারেন। এতে ক্ষতির কোনো কারণ নেই, বরং নিয়মিত কোয়েলের ডিম খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং অনেক কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভও হতে পারে।

কোয়েলের ডিম হার্ট ডিজিজ, কিডনি সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পাকস্থলী ও ফুসফুসের নানা রোগ, স্মৃতিশক্তি রক্ষা, রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং উচ্চ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে থাকে।

কোয়েলের ডিমের পুষ্টি উপাদান ও উপকারিতা:
সম্পূর্ণ পুষ্টির উৎস: কোয়েলের ডিম প্রাণীজ খাদ্যদ্রব্য হলেও এর মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, এনজাইম এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড এমন মাত্রায় থাকে যে এই ডিম খেলে শরীরে সব ধরনের পুষ্টির অভাব পূরণ হয় এবং শরীরের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১৩.০৫ গ্রাম প্রোটিন এবং ১৫৮ ক্যালরি থাকে।

কম কোলেস্টেরল, বেশি প্রোটিন: মুরগির ডিমের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, কোয়েলের ডিমে কোলেস্টেরল থাকে মাত্র ১.৪%, অন্যদিকে মুরগির ডিমে থাকে ৪%। আশ্চর্যজনকভাবে, কোয়েলের ডিমের কুসুমে প্রোটিনের পরিমাণ মুরগির ডিম থেকে শতকরা প্রায় সাত গুণ বেশি থাকে।

ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ: কোয়েলের ডিমে ভিটামিন বি-১ এর পরিমাণ মুরগির ডিম থেকে প্রায় ছয় গুণ বেশি, আর ফসফরাস ও আয়রনও থাকে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এছাড়াও এতে এমন কিছু উপাদান আছে যা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াকে নষ্ট করে।

বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক: শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড কোয়েলের ডিমে বিদ্যমান। যার কারণে কোয়েলের ডিম কোনো কোনো দেশে মেডিসিন হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

হৃদপিণ্ড, কিডনি ও লিভারের স্বাস্থ্য: নিয়মিত কোয়েলের ডিম খেলে হার্টের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়, কিডনি এবং লিভারের কার্যক্ষমতা ও হজমশক্তি বাড়ে এবং অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে থাকে।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি: এটি ব্রেইনকে সবসময় সতেজ রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে থাকে কোয়েলের ডিম। দুর্বল বাচ্চা থেকে বৃদ্ধরা প্রতিদিন তিন/চারটা করে কোয়েলের ডিম খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কোয়েলের ডিম মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে।

অন্যান্য উপকারিতা: এছাড়াও এটি পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে। চাইনিজরা কোয়েলের ডিমকে টিবি, অ্যাজমা এবং ডায়াবেটিস রোগের পথ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। কিডনি ও লিভারের সমস্যা দূর করতেও এই ডিমের রয়েছে কার্যকর ভূমিকা।

যারা বেশি উপকার পেতে চান, তারা রাতে দুই কাপ জলে একটু কোয়েলের ডিম ভিজিয়ে রেখে দিতে পারেন (যদিও কোয়েলের ডিম ভেজানোর তথ্য কম প্রচলিত, ডিম সেদ্ধ করে বা অন্যান্য রান্না করে খাওয়া বেশি প্রচলিত)। পরের দিন সকালে ওই জলটা হালকা গরম করে খালি পেটে পান করতে পারেন। এটি পেট পরিষ্কার রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে এবং সারাদিন আপনাকে প্রাণবন্ত রাখে।

কোয়েলের ডিমের এই অসাধারণ পুষ্টিগুণ আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এটিকে একটি মূল্যবান সংযোজন করে তুলতে পারে। আপনি কি কোয়েলের ডিম আপনার খাবারে নিয়মিত রাখেন?