ছোট বয়সেই শিশুদের চোখের সমস্যা: মোবাইল নয়, মাঠেই ফিরুক সুস্থ দৃষ্টি

আজকাল ছোট বাচ্চাদের চোখে মোটা চশমার দৃশ্য বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এর মূল কারণ হিসেবে পুষ্টিবিদ ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহারকে। শিশুদের শান্ত রাখার জন্য অভিভাবকরা প্রায়শই তাদের হাতে মোবাইল তুলে দেন, আর এতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, যার ফলে অল্প বয়সেই শিশুদের চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের চোখ ভালো রাখতে হলে তাদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখা এবং মাঠে খেলতে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন:

ডিভাইস-মুক্ত সময় তৈরি করুন:
ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মধ্যে একটি অভ্যাস তৈরি করা উচিত। বাড়িতে এমন একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন যখন পরিবারের কেউই কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে হাত দেবে না। এই সময়টা এমন হওয়া উচিত যখন জরুরি ফোন কল বা কাজের চাপ কম থাকে। তখন আপনারা একসঙ্গে বই পড়া, ঘর পরিষ্কার করা, বাগান তৈরি করা, রান্না করা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজ করতে পারেন। যতটা সম্ভব বাচ্চাকে বাইরের কাজে ব্যস্ত রাখুন। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস তৈরি হলে তাদের মধ্যে ফোন ব্যবহারের প্রতি আসক্তি তৈরি হবে না।

পিকনিকে যান:
ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকের পরিকল্পনা করুন। এর জন্য দূরে কোথাও যেতে হবে এমন নয়। ছুটির দিনে রোজকার ব্যস্ততার পরিবর্তে বাড়ির ব্যালকনি বা ছাদে বসে খাবার খেতে পারেন। বাড়ির সামনে কোনো বাগান থাকলে সেখানে বসেও খেতে পারেন। এতে পিকনিকের একটা আমেজ তৈরি হবে, যা আপনাদের একঘেয়েমি কাটিয়ে দেবে এবং বাচ্চার চোখের জন্যও ভালো হবে। প্রাকৃতিক আলো ও খোলা পরিবেশে সময় কাটানো চোখের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

আউটডোর গেমস ও বাগান তৈরি:
বর্তমানে শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে খেলার জায়গার অভাব দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে কোনো ক্লাবে ভর্তি করে দিতে পারেন যেখানে খেলার সুব্যবস্থা আছে। এছাড়াও, যদি বাড়ির ছাদ থাকে, সেখানে ছোট্ট একটি বাগান তৈরি করুন। বাগান সাজাতে বাচ্চাকে সাহায্য করতে বলুন। দেখবেন, বাচ্চারা গাছের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে পারবে এবং পরিবেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট হবে। সেই বাগানের মধ্যে বাচ্চার খেলার একটি জায়গা তৈরি করুন এবং তার বন্ধুদেরও সেখানে আসতে বলতে পারেন। এছাড়াও, বিভিন্ন আউটডোর গেমস খেলতে উৎসাহিত করুন।

ডিভাইস ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে বোঝান:
শিশুকে গল্পের ছলে বারবার বোঝান যে সব সময় ফোন নিয়ে ঘাঁটার ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে। তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করুন। দেখবেন, ভয় দেখাতে দেখাতে তাদেরও ফোন নিয়ে খেলার অভ্যাস কমে যাবে।

বাচ্চার বেডরুমে টিভি নয়:
অনেক অভিভাবক সন্তানের বেডরুমে টিভি লাগিয়ে রাখেন, যেখানে বাচ্চারা ভিডিও গেম খেলে। এটি একেবারেই ঠিক নয়। এর থেকে বাচ্চাদের টিভি দেখার নেশা বেড়ে যায়। তাই সন্তানের বেডরুমে টিভি রাখবেন না। এর পরিবর্তে ড্রয়িং রুমে বা বাড়ির অন্য কোনো সাধারণ জায়গায় টিভি রাখুন। প্রয়োজন হলে আপনারাও নিজেদের ঘরে টিভি রাখা থেকে বিরত থাকুন। যতটা সম্ভব বাড়ির বাইরে বাচ্চাকে নিয়ে যান এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে উৎসাহিত করুন।

শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। মোবাইল ফোন থেকে দূরে রেখে তাদের খোলা আকাশের নিচে খেলতে পাঠানোর মাধ্যমেই সুস্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি হবে।