বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হৃদরোগ, কারণ খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা। উদ্বেগের বিষয় হল, এখন আর শুধু বয়স্করাই নন, বরং সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপনকে এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, কোভিড-১৯ অতিমারীর প্রভাবও হৃদযন্ত্রের উপর পড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠা বহু মানুষের মধ্যেই হার্টের বিভিন্ন জটিলতা দেখা যাচ্ছে, যা বিশেষভাবে চিন্তার কারণ।

ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও অনেকের মধ্যে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা, বুকে চিনচিনে ব্যথা এবং শ্বাস নিতে কষ্টের মতো লক্ষণগুলি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, এই উপসর্গগুলিকে একেবারেই হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তবে এর আগেই, সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখেও দুর্বল হৃদযন্ত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা গেলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে:

হঠাৎ হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি: সাধারণভাবে পালস রেট প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকা স্বাভাবিক। তবে যদি হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বা কমে যায়, তবে তা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে।
অবিরাম দুর্বলতা ও ক্লান্তি: বিভিন্ন রোগের কারণে শরীরে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি ক্লান্তি না কমে এবং দুর্বলতা persist করে, তবে তা হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। দুর্বল হৃদযন্ত্র সারা শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাম্প করতে পারে না, যার ফলে এই দুর্বলতা অনুভূত হয়।
বুকে ব্যথা: অনেকেই বুকে ব্যথার লক্ষণকে গ্যাসের সমস্যা বা অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল করেন। তবে বুকে চাপ লাগা বা ব্যথা অনুভব করা হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তাই এই বিষয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
শ্বাসকষ্ট: করোনা থেকে সেরে ওঠার পরেও অনেক রোগী শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে পারে, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এই লক্ষণটিকে অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়।
এছাড়াও, ঘাড়, চোয়াল, গলা, পেটের উপরের অংশে বা পিঠে ব্যথা অনুভব করা, ঘন ঘন মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলিও হৃদরোগের পূর্বাভাস দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কোনওরকম শারীরিক সমস্যাকেই উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।