সুস্থ থাকতে সঠিক খাবার, সঠিক সময়! খালি পেটে খান এই ৫টি জিনিস

শরীরকে সুস্থ রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ওজন কমাতে না খেয়ে থাকা কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করা—এসবই সুস্থ থাকার প্রচেষ্টার অংশ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাবার গ্রহণ করা এবং তা সঠিক সময়ে খাওয়া। যখন যা খুশি খেলেই সুস্থ থাকা সম্ভব নয়।

কারণ পুষ্টিকর খাবার না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতি বা আধিক্য দেখা দিতে পারে, যা শরীরে নানা রোগের জন্ম দেয়। ব্যস্ত জীবনে হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তাই খাওয়ার প্রবণতা গ্যাস্ট্রিক ও হজমের মতো সমস্যা ডেকে আনে। বিশেষ করে সকালের খাবার ঠিকঠাক না হলে সারাদিন শরীর দুর্বল ও অ্যানার্জিহীন থাকে। পুষ্টিবিদরা তাই সকালের খাবারকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আহার হিসেবে বিবেচনা করেন এবং কখনোই তা বাদ দিতে নিষেধ করেন।

তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ঠিক কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ সকালের খাবারের ওপরই নির্ভর করে দিনের শুরুটা কেমন হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সকালে খালি পেটে কোন ৫টি খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী:

১. মধু মেশানো জল (অথবা শুধু মধু):

সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে মধু মেশানো জল খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে যাদের লেবুতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা শুধু মধু মিশিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। মধুতে শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ, ভিটামিন ও উৎসেচক থাকে, যা শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। খালি পেটে মধু খেলে মেটাবলিজম বাড়ে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বেরিয়ে যায়।

২. ভেজানো কাঠবাদাম:

পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কাঠবাদাম খেলে সারাদিন শরীরে পর্যাপ্ত অ্যানার্জি পাওয়া যায়। এটি ওজন কমাতেও সহায়ক। কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। কাঠবাদামের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খান।

৩. ডিম:

ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। সকালের নাস্তায় সেদ্ধ ডিম অথবা অমলেট রাখা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। ডিম খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে সারাদিন অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

৪. ওটসের পরিজ:

অনেকেই সকালের নাস্তায় ওটস খান, কেউ দুধ দিয়ে আবার কেউ টক দই দিয়ে। তবে ওটসের পরিজ বানিয়ে খেলে তা শরীরের জন্য আরও বেশি উপকারী। গরম জলে ওটস এবং পাকা কলা মিশিয়ে সহজেই পরিজ তৈরি করা যায়। এটি শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

পরিজ তৈরির জন্য প্রথমে কড়াইতে ওটস ভেজে নিন। এরপর ২ কাপ জল দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। ঘন হয়ে এলে আধা কাপ দুধ এবং ২ চামচ গুড় বা মধু মিশিয়ে দিন। ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে উপরে আমন্ড ও কাজু ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। ইচ্ছে হলে কলা বা আপেলও যোগ করতে পারেন।

৫. ফল:

সকালের নাস্তায় অবশ্যই ফল রাখা উচিত। অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে খালি পেটে ফল খাওয়া উচিত নয়। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ উপোস থাকার পর বা ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও জল থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায়।

সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই সকালের নাস্তাকে অবহেলা না করে এই ৫টি স্বাস্থ্যকর খাবারকে আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এবং দিনের শুরুটা করুন স্বাস্থ্য ও অ্যানার্জিতে ভরপুর।