ভবানীপুর নির্বাচনে কারচুপির মামলা! শুভেন্দু অধিকারীকে বড় ডেডলাইন দিল কলকাতা হাইকোর্ট

ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় এবার লিখিত জবাব দেওয়ার পালা বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর। এই মামলায় নিজের বক্তব্য আদালতে পেশ করার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
ঠিক কী নিয়ে মামলা?
২০২১ সালের ভবানীপুর উপনির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচনী পিটিশন (Election Petition) দায়ের করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা— গোটা প্রক্রিয়াতেই মারাত্মক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। ভোট গণনার দিন তৃণমূলের এক গণনা এজেন্টকে মারধর করে বের করে দেওয়া এবং খোদ প্রার্থী মমাদিকে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
এছাড়াও মামলার শুনানিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়। মমতার আইনজীবীর দাবি, যে আধিকারিক নন্দীগ্রামে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকেই পরবর্তীতে ভবানীপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ
মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর তরফে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেছে। এর আগে গত অগস্টের শুনানিতেও শুভেন্দুর আইনজীবী জয়দীপ কর সময় চেয়েছিলেন, তখন বিচারপতি তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগেই এই মামলায় নির্বাচন সংক্রান্ত নথি, ইভিএম এবং সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এখন আগামী বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী নিজের লিখিত জবাব জমা দেওয়ার পর এই হাই-ভোল্টেজ মামলার কার্যবিবরণী কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।