গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন? জানালেন পুষ্টিবিদ

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন? জানালেন পুষ্টিবিদ
দিনহাটা, ১৫ মে, ২০২৫: গ্রীষ্মের দাবদাহ ক্রমশ বাড়ছে। এই সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। গরমে শরীরে নানা ধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়। তাই বিশেষজ্ঞরা এই সময় ছোট-বড় সকলের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। যেহেতু গরমকালে শরীরের তাপমাত্রা বিভিন্ন কারণে বেড়ে যায়, তাই কিছু খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত গরমের সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে ভারতীয় পুষ্টিবিদ ও নিউট্রিটু-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. ইতু খোসলা ছাবরা বলেন, “যেহেতু গ্রীষ্মকালেই বেশিরভাগ ফল পাওয়া যায়, তাই এই সময় মৌসুমী ফল খেলেই শরীর ঠান্ডা থাকবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই লেবুর জল যোগ করুন। এটি গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক।”

কেন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়?

পেটের ভেতরে অতিরিক্ত হজম প্রক্রিয়া চললে পেট গরম হয়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে ঘাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে যখন অতিরিক্ত গরম থাকে, তখন শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া অতিরিক্ত কাজ করে। এই অবস্থায় মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার ত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি ক্যাফেইনও এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

গরম কমাতে কোন খাবার খাবেন?

গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা এড়াতে ঠান্ডাজাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত। যেমন – বেশি জলযুক্ত সবজি লাউ ও চালকুমড়া গ্রীষ্মকালে খাওয়ার জন্য চমৎকার। এই সবজি পেট ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের তাপ কমায়। এছাড়াও, এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। আরও যা যা খেতে পারেন:

পেঁয়াজ: পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিন নামক উপাদান অ্যান্টি-অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। এটি আপনাকে সানস্ট্রোক থেকেও রক্ষা করতে পারে। পেঁয়াজের সাথে শসা, মুলা ও গাজর মিশিয়ে সালাদ তৈরি করতে পারেন। এর সাথে লেবু ও কালো লবণ যোগ করলে তা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে, ক্ষুধা ও ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

ছাতুর শরবত: গরমে নিয়মিত ছাতুর শরবত পান করা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি পান করলে আপনি তাৎক্ষণিক শক্তি পাবেন। ছাতুর শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

বেলের শরবত: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেলের শরবতও অনেক উপকারী। এই সময় হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বেলের শরবত সাহায্য করতে পারে। এটি ফাইবারে পরিপূর্ণ। তবে বেলের শরবত তৈরির সময় চিনি ব্যবহার না করাই ভালো।

মটকার জল: পুষ্টিবিদ ইতু খোসলা বলেন, গরমে ফ্রিজের জলের চেয়ে মটকা বা মাটির পাত্রের জল পান করা স্বাস্থ্যকর। এই পাত্রের জল হজমের জন্য উপকারী এবং এটি শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। মটকার জলে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়।

অন্যান্য: এছাড়াও তরমুজের শরবত, বাটার মিল্ক, টকদই ও শসাও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। এসব খাবারে প্রচুর জল থাকে, যা শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচায়। পাশাপাশি এই খাবারগুলো গ্রীষ্মকালীন পেটের সমস্যা যেমন – ফুলে যাওয়া, গ্যাস ও অ্যাসিডিটি ইত্যাদি থেকেও রক্ষা করে।

এই গরমে সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলুন এবং গরমের খাবার নির্বাচনে সচেতন হন।