ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগ্রত! ভবিষ্যৎ জানার ক্ষমতা থেকে মনের কথা শোনা, সবই সম্ভব

প্যারাসাইকোলজির এক রহস্যময় জগত আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরেও এক বিশেষ ক্ষমতার অস্তিত্বের কথা বলে। এই শাস্ত্র অনুযায়ী, আমাদের মাথার খুলির নীচে অবস্থিত ব্রহ্মরান্ধ্র নামক একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে সুষুম্না নাড়ি মেরুদণ্ড বেয়ে মূলাধারায় নেমে আসে। শরীরের বাম দিকে ইড়া এবং ডান দিকে পিঙ্গলা নাড়ির অবস্থান। এই দুইয়ের মাঝে সুষুম্না নাড়ি অবস্থিত, যাকে সাতটি চক্র ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তবে কিছু বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে একে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগ্রত হলে কী লাভ?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জাগ্রত হলে মানুষ অসাধারণ কিছু ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে। এর কিছু সম্ভাব্য সুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো:
পূর্বাভাসের ক্ষমতা বৃদ্ধি: ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কোনো ঘটনার আগাম আভাস দিতে সাহায্য করে।
মনের ভাব জানা: কয়েক মাইল দূরে বসেও অন্য ব্যক্তির মনের ভাবনা আঁচ করা সম্ভব হতে পারে।
অসীম সম্ভাবনা: একবার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণরূপে জাগ্রত হলে, কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কিছুই গোপন রাখা যায় না এবং ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা বিকাশের সম্ভাবনা অসীম হয়ে ওঠে।
কীভাবে সক্রিয় করবেন ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়?
প্যারাসাইকোলজিস্টরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কৌশল হলো:
ধ্যান (মেডিটেশন): নিয়মিত ধ্যান ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের সবচেয়ে সহজ উপায়। এটি মনকে শান্ত করে এবং যখন আপনি আপনার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগাতে চান তখন এটি সহায়ক হয়। প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিটের ধ্যান এই ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হতে পারে।
ত্রাতক অনুশীলন: এই প্রাচীন পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু, ক্রিস্টাল বল, মোমবাতি অথবা ঘি-এর প্রদীপের শিখার দিকে পলক না ফেলে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়। নিয়মিত এই অনুশীলন ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
অগ্নি চক্র জাগরণ: নিয়মিত ধ্যান অভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের অগ্নি চক্র ধীরে ধীরে জাগ্রত হতে শুরু করে। এই চক্রটি আমাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্যারাসাইকোলজির এই ধারণা কতটা বিজ্ঞানসম্মত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বহু মানুষ বিশ্বাস করেন যে নিয়মিত অনুশীলন ও একাগ্রতার মাধ্যমে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব। এই বিশেষ ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে মানুষ জগৎ ও জীবনের অনেক অজানা রহস্যের সম্মুখীন হতে পারে, এমনটাই মনে করেন এই শাস্ত্রের অনুসারীরা।