গর্ভধারণের আগে কেন জরুরি ফলিক অ্যাসিড? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় বেশিরভাগ দম্পতি ডিম্বস্ফোটনের চক্র এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে মনোযোগ দেন। তবে গর্ভধারণের সময় অনাগত সন্তানের উর্বরতা এবং স্বাস্থ্য উভয়ের ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নির্ধারক ভূমিকা পালন করে, আর তা হলো ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ। ফলিক অ্যাসিড হলো গুরুত্বপূর্ণ বি ভিটামিন ফোলেটের একটি কৃত্রিম রূপ, যা শরীরকে সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

ফলিক অ্যাসিড কী?

ফলিক অ্যাসিড হলো ফোলেটের কৃত্রিম সংস্করণ, যা বিভিন্ন খাবারে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি বি ভিটামিন। প্রাকৃতিকভাবে ফোলেটযুক্ত খাবারের কয়েকটি উদাহরণ হলো পাতাযুক্ত সবুজ শাক, মটরশুঁটি এবং সাইট্রাস ফল। ডিএনএ এবং লোহিত রক্তকণিকা (RBC) তৈরিতে ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর নিউরাল টিউবের সঠিক গঠন এবং বিকাশেও সহায়তা করে, যা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের কর্ড গঠন করে। গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড কেন খাবেন:

১. নিউরাল টিউব ত্রুটি (NTD) প্রতিরোধ করে:

ভ্রূণের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে নিউরাল টিউব ত্রুটি (এনটিডি) দেখা দিতে পারে। সহজ ভাষায় এনটিডি বলতে বোঝায় যখন মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের কর্ড স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় না। তবে, যদি কোনো নারী গর্ভাবস্থার আগে এবং ঠিক শুরুতে পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করেন, তবে এটি ভ্রূণের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর জন্মগত অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। গবেষকরা অনুমান করেছেন যে একজন গর্ভবতী নারী প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করলে এনটিডির ঝুঁকি ৭০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

২. উর্বরতা বৃদ্ধি করে:

কোষ বিভাজন এবং টিস্যু বৃদ্ধিতে ফলিক অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা প্রজননের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ফলিক অ্যাসিডের পরিপূরক উর্বরতা উন্নত করতে সহায়ক কারণ এটি নারীর সুস্থ ডিম্বাণু এবং পুরুষের শুক্রাণু বিকাশে সাহায্য করে। এটি হরমোনকেও নিয়ন্ত্রণ করে, যা ডিম্বস্ফোটন এবং গর্ভধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. গর্ভপাত রোধ করতে সাহায্য করে:

বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, গর্ভধারণের আগে নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণকারী নারীর গর্ভপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেসব নারী ফলিক অ্যাসিডের পরিপূরক গ্রহণ করেন তাদের গর্ভপাতের ঝুঁকি যারা গ্রহণ করেন না তাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

৪. গর্ভাবস্থার জন্য শরীর প্রস্তুত করে:

ফলিক অ্যাসিডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো লোহিত রক্তকণিকা এবং প্লাসেন্টার (গর্ভফুল) সঠিক বিকাশ ঘটানো। ফলিক অ্যাসিডের পরিপূরক নিশ্চিত করে যে আপনার শরীর গর্ভাবস্থার জন্য যতটা সম্ভব প্রস্তুত, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের বর্ধিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

কখন থেকে ফলিক অ্যাসিড খাওয়া শুরু করবেন?

বিশেষজ্ঞরা সন্তান জন্মদানের চেষ্টা শুরু করার কমপক্ষে এক মাস আগে থেকে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ শুরু করার পরামর্শ দেন। এটি শরীরকে গর্ভাবস্থার প্রথম দিনগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন সঞ্চয় করার জন্য যথেষ্ট সময় দেয়। এমনকি প্রথম ত্রৈমাসিক (প্রথম তিন মাস) জুড়ে এই পরিপূরক গ্রহণ চালিয়ে যাওয়া উচিত, যা আপনার শিশুর প্রাথমিক বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

সুতরাং, সুস্থ মা ও সুস্থ সন্তানের জন্য গর্ভধারণের আগে থেকেই ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।