সুস্থ থাকতে কতটা লবণ খাচ্ছেন? ভারতীয়দের লবণ গ্রহণের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দ্বিগুণেরও বেশি!

লবণ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার এক অপরিহার্য অংশ। লবণ ছাড়া খাবারের স্বাদ যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনই আমাদের শারীরিক কার্যকলাপের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কুফল সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, অতিরিক্ত লবণ খেলে উচ্চ রক্তচাপ সহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

হু-র এক বছর আগের একটি সমীক্ষা অনুসারে, বিশ্বে প্রতি বছর ১৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যান শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হওয়ার কারণে। আর লবণের মাধ্যমেই আমাদের শরীরে সোডিয়ামের সরবরাহ এবং ভারসাম্য বজায় থাকে। ২০১৭ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের এক সম্মেলনে জানানো হয়, ভারতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরেরও কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

গবেষকরা বিশ্বের ১৮৭টি দেশের সাধারণ মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, অধিকাংশ দেশের মানুষই দৈনিক ৫ গ্রামের চেয়ে বেশি লবণ গ্রহণ করে থাকেন। ওই গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী একজন মানুষ গড়ে ৩.৯৫ গ্রাম লবণ খেয়ে থাকেন। তবে মধ্য এশিয়ায় বসবাসকারী মানুষের লবণ খাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, যেখানে দৈনিক গড় গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৫.৫১ গ্রাম।

তবে উদ্বেগের বিষয় হল, ভারতে একজন ব্যক্তি দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ গ্রাম লবণ খান, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত পরিমাণের দ্বিগুণেরও বেশি। এই অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাই সুস্থ জীবনযাপন এবং মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতা এড়াতে খাদ্যে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত লবণ মেশানো খাবার ত্যাগ করে প্রাকৃতিক খাবারের উপর নির্ভর করা এবং রান্নায় পরিমিত লবণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।