জিমে না গিয়ে, ডায়েট না করেও ওজন কমান! রইল ৭টি সহজ কৌশল

ওজন কমানো নিয়ে অনেকেই হিমশিম খান। জিমে যাওয়ার সময় নেই, আবার পছন্দের খাবার ছাড়তেও মন চায় না। তবে বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন ৭টি কৌশলের সন্ধান দিয়েছেন, যা অনুসরণ করে জিমে না গিয়ে এবং কঠোর ডায়েট না করেও ওজন কমানো সম্ভব! জেনে নিন সেই সহজ উপায়গুলো:

১. লম্বা ও সরু গ্লাসে পানীয় পান: স্থূলকায় ব্যক্তিদের মধ্যে কোমল পানীয়ের মতো মিষ্টি পানীয় পানের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। হঠাৎ করে এই অভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন। তাই বিজ্ঞানীরা লম্বা ও সরু গ্লাসে পানীয় পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। মজার বিষয় হল, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, লম্বা ও সরু গ্লাসে পানীয় পান করলে ২৫-৩০% পর্যন্ত কম পান করা হয়। বিজ্ঞানীরা একে এক ধরনের অপটিক্যাল ইলিউশন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

২. বেশি করে প্রোটিন খান: প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য তালিকায় প্রোটিনযুক্ত খাবারের পরিমাণ ১৫% পর্যন্ত বাড়ালে ৪৪০ ক্যালোরি পর্যন্ত কম খাওয়া যায়। এর ফলে ৩ মাসে প্রায় সাড়ে ৪ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। মাংস, মাছ, ডিম, পনির এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়।

৩. খিদে লাগলে পুদিনার চুইংগাম চিবান: হালকা খিদে লাগলে অস্বাস্থ্যকর নাস্তা খাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই পকেটে সবসময় চিনিমুক্ত পুদিনার চুইংগাম রাখুন। যখনই হালকা খিদে লাগবে, তখনই একটি চুইংগাম চিবিয়ে নিন। পুদিনার গন্ধ স্বাদ গ্রন্থির কার্যক্রম কমিয়ে দেয় এবং খিদে অনুভূতি দূরে সরিয়ে দেয়।

৪. পর্যাপ্ত ঘুমান: ২০১৩ সালে ‘ন্যাচার কমিউনিকেশন’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা রাতে ৬ ঘণ্টার চেয়ে কম সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেশি এবং ওজনও বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৫. ছোট জামাকাপড় কিনুন: নিজের বর্তমান মাপের চেয়ে ছোট জামাকাপড় কিনুন এবং ঘরের এমন জায়গায় টাঙিয়ে রাখুন, যেখানে বারবার সেগুলোর উপর চোখ যাবে এবং দামের কথা মনে পড়বে। এর ফলে আপনার ওজন কমানোর আগ্রহ বাড়বে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

৬. অন্যের সাথে ওজন কমানোর প্রতিযোগিতা: আপনার বন্ধু অথবা সহকর্মীর সাথে ওজন কমানোর প্রতিযোগিতায় নামুন। এতে দ্রুত ওজন কমানোর তাগিদ বাড়বে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কেউ ওজন কমানোর প্রতিযোগিতা করে, তখন লক্ষ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০% বেড়ে যায়।

৭. বরফ দিয়ে ওজন কমান: মাস্ট্রিক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা তাপমাত্রা ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ ঠান্ডা তাপমাত্রায় সাদা চর্বি বাদামী চর্বিতে রূপান্তরিত হয়, যা শরীর বিপাকের মাধ্যমে সহজেই দূর করতে পারে।

একটি আইস প্যাকে বরফ নিয়ে যেখানে চর্বি বেশি, সেখানে পাতলা কাপড় জড়িয়ে দিন।
অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন।
দিনে একবার করে টানা ১২ দিন করুন।
এই সহজ কৌশলগুলো অবলম্বন করে আপনি জিমে না গিয়ে এবং কঠোর ডায়েট ছাড়াই কিছুটা ওজন কমাতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সুষম আহার এবং হালকা ব্যায়াম সবসময়ই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।