ঘুমোতে পারছেন না? মোবাইল ছেড়ে এই নিয়মগুলো মানলেই মিলবে শান্তির ঘুম

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারণে ঘুমের সমস্যা একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ঘুম না এলে বেশিরভাগ মানুষই মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে লাইক গোনার অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন। এই মোবাইলের নেশাই কেড়ে নেয় রাতের ঘুম। আজকের দিনে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত, ঘুমের ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ হল সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার। এছাড়াও আরও নানা কারণে ঘুমের অসুবিধা হতে পারে।

কম ঘুম মানেই শরীরে বাসা বাঁধে হাজারো রোগ। আর এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে আজ, ১৫ মার্চ পৃথিবী জুড়ে পালিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে (World Sleep Day)। ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন’ ২০০৮ সালে প্রথম এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ঘুমের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি ঘুম সংক্রান্ত নানা সমস্যা—ইনসোমনিয়া, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম, সোমনামবুলিজম-সহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

‘ওয়ার্ল্ড স্লিপ সোসাইটি’-র পক্ষে ঘুম বিশেষজ্ঞ সৌরভ দাস এবং উত্তম আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘নাক ডেকে ঘুম মানে ‘নিশ্ছিদ্র নিদ্রা’ নয়। এর ডাক্তারি নাম অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ওএসএ। এই অসুখ থাকলে ঘুমের মধ্যে বিকট শব্দে নাক ডাকে। সঠিক চিকিৎসায় এই সমস্যা না সারালে নানান রোগ-ব্যাধির ঝুঁকি ক্রমশ বাড়তে থাকে।’’

ভালো ঘুম হলে কমে যায় হাজারো অসুখ। বিশ্বের প্রতি ১০০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যে ৩৫-৪৫ জন ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কম ঘুম মানুষের জীবনের গুণমান নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয়, কম ঘুমোলে ডিপ্রেশন বাড়ে, মনোযোগ কমে যায়। ছোটরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং পরীক্ষার ফল খারাপ হতে শুরু করে। আর বড়দের অফিস ও পেশাদার কাজের পারফরম্যান্স খারাপ হতে থাকে।

ঘুম কম হলে মানসিক সমস্যাও বাড়ে। মানুষে-মানুষে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে, ধৈর্য কমে যায়, মেজাজ চড়ে যায়। দিনের পর দিন কম ঘুম হলে কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়।

তবে আশার কথা হল, বেশিরভাগ স্লিপ ডিসঅর্ডার প্রতিরোধযোগ্য এবং সেরেও যায়। তবে উদ্বেগের বিষয় হল, এক তৃতীয়াংশের কম সংখ্যক মানুষ এই সমস্যার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে থাকেন, বাকিরা এই বিষয়ে উদাসীন থাকেন, যা চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আট ঘণ্টা না পারলেও নিয়ম মেনে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ছোটদের আরও বেশি ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের মধ্যে গ্রোথ হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়। তাই বাচ্চারা কম ঘুমোলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না।

জ্বর, ভাইরাল ইনফেকশন বা পেটের গোলমালের মতো অসুস্থতায় ভালো করে ঘুমোলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। প্রতিদিনের ঘুম আমাদের রোজকার ক্ষয়-ক্ষতি মেরামত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা অর্থাৎ স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে হাইপারটেনশন, হৃদরোগ, আচমকা হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

ভালো ঘুমের টিপ্‌স:

ঘুমোতে যাওয়ার এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট করুন।
বিছানায় যাওয়ার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিলে ভালো।
রাতে বেশি জল পান করবেন না।
সন্ধ্যার পর চা, কফি, সিগারেট না খাওয়াই ভালো। এতে ঘুম আসতে চায় না।
সকাল-সন্ধ্যা কিছুটা ব্যায়াম করলে ভালো ঘুম হয়।
মদ্যপান করলে সাময়িক ভাবে ঘুম এলেও পরে নেশাগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ঘুমোনোর চার ঘণ্টা আগে মিষ্টি বা বেশি মশলাদার খাবার খাবেন না।
বিছানাকে কেবল ঘুমোনোর জায়গা হিসেবেই ব্যবহার করুন, ওয়ার্ক স্টেশন অথবা আড্ডার জায়গা করে তুলবেন না। বরং ঘুমোতে যাওয়ার সময় হালকা গান শুনতে পারেন অথবা পছন্দের বই পড়তে পারেন।
ঘুম কম হলে বা না হলেই ওভার দ্য কাউন্টার ঘুমের ওষুধ কিনে খাবেন না।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে হালকা সুতির পোশাক পরে নিন। টাইট পোশাক পড়লে ঘুমের অস্বস্তি হয়। আর ঘুমের সময় ফ্রেশ পোশাক পরাই বাঞ্ছনীয়।
এক নাগাড়ে ঘুমের অসুবিধা হলে অবশ্যই একজন নিদ্রা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
তাই, ঘুমের সমস্যাকে অবহেলা না করে আজ থেকেই এই নিয়মগুলো মেনে চলুন এবং একটি সুস্থ ও শান্তির ঘুম নিশ্চিত করুন।