ডায়াবেটিস মানেই মুখ বন্ধ নয়! এই ৫টি মুখরোচক খাবার খেতে পারেন পরিমিত পরিমাণে

ডায়াবেটিস ধরা পড়া মানেই যেন খাদ্যতালিকায় একরাশ নিষেধাজ্ঞার পাহাড়। বিশেষ করে মিষ্টিজাতীয় খাবারের দিকে তো তারা ভুলেও তাকাতে পারেন না। কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীর খারাপ হওয়ার ভয় থাকে। চিনিযুক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে, একথা সত্যি।
তবে এমন কিছু সুস্বাদু খাবারও রয়েছে, যা ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত মাত্রায় উপভোগ করতে পারেন। ওয়েব এমডি ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, সেই খাবারগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. বাদাম দুধ: শুধু দুধ খেতে অনেকের ভালো লাগে না, আবার সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে চিনিও মেশাতে পারেন না। তাদের জন্য বাদাম দুধ হতে পারে একটি চমৎকার বিকল্প। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই এতে প্রচুর ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। বাজারে বিভিন্ন ফ্লেভারের বাদাম দুধ পাওয়া যায়, তবে কেনার সময় খেয়াল রাখবেন তাতে যেন অতিরিক্ত চিনি যোগ করা না থাকে।
২. বাদামের রুটি: বাদাম এবং বিভিন্ন বীজ স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনের দারুণ উৎস। এতে শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও কম থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে খুব বেশি বাড়ায় না এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বাজারে এখন বাদামের আটা দিয়ে তৈরি রুটিও পাওয়া যায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
৩. তাজা চর্বিহীন মাংস: প্রক্রিয়াজাত বা লাল মাংসের পরিবর্তে তাজা মাছ অথবা চর্বিহীন মাংস খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। এগুলোতে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ কম থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। তবে মাংস রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ও মশলা ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪. নারকেল বা লেবুর জল: ফলের রসে সাধারণত প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ একটু বেশি থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ফল কম পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পানীয়ের চাহিদা মেটাতে নারকেলের জল বা লেবুর জল হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। ডাবের জল শরীরে পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। লেবুর জলে সামান্য পরিমাণে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা পরিমিত হতে হবে।
৫. স্বাস্থ্যকর মিষ্টি বল (মিঠাই বল): মিষ্টি খেতে মন চাইলে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন স্বাস্থ্যকর মিষ্টি বল। এগুলো সাধারণত ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় এবং এতে চিনির পরিমাণ কম রাখা হয় অথবা কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করা হয়। কোকো পাউডার, আখরোট বা বাদাম কুচি, খেজুরের পেস্ট এবং ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে ছোট ছোট ফুড বল তৈরি করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, খেজুরের পেস্ট প্রাকৃতিক মিষ্টি হলেও তা পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই ভালো।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি, তবে এর মানে এই নয় যে আপনাকে সমস্ত মুখরোচক খাবার থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে। পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক খাবার নির্বাচন করে ডায়াবেটিস রোগীরাও একটি স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারেন। তবে যেকোনো নতুন খাবার ডায়েটে যোগ করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
Canvas