গরমকালে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন! এই ৫টি ফল ভুলেও খাবেন না

গরমকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য সচেতন থাকার বিশেষ পরামর্শ দেন। এই ঋতুতে হজম সংক্রান্ত সমস্যা যেমন বাড়ে, তেমনই ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আসলে, গ্রীষ্মকালে এমন অনেক সুস্বাদু ফল পাওয়া যায় যাতে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ) এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশি থাকে। এই ধরনের ফল খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই গরমকালে ডায়াবেটিস রোগীরা কোন ফলগুলি এড়িয়ে চলবেন, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

ডায়াবেটিস রোগীদের যে ৫টি ফল খাওয়া উচিত নয়:

১. আম: আম খেতে সুস্বাদু হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এর গ্লাইসেমিক সূচকও ৫১-৫৬ এর মধ্যে থাকে। এমনকি একটি মাঝারি আকারের পাকা আমেও প্রায় ২০-২৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে। যদি আপনি আমপ্রেমী হন, তবে খুব সীমিত পরিমাণে (৫০-৮০ গ্রাম) বাদাম বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে চিনির স্পাইক কিছুটা কমানো যেতে পারে।

২. আঙ্গুর: আঙ্গুরেও প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। ১০০ গ্রাম আঙ্গুরে প্রায় ১৬ গ্রাম চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের এই ফলটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

৩. ডুমুর: ডুমুর ফল মিষ্টি এবং এতে চিনির পরিমাণও বেশ বেশি। একটি মাঝারি আকারের ডুমুরে প্রায় ৮ গ্রাম চিনি থাকতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৪. লিচু: লিচুর গ্লাইসেমিক সূচক বেশ উচ্চ এবং এটি খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ১০০ গ্রাম লিচুতে প্রায় ১৫ গ্রাম চিনি থাকে। তাই গরমকালে এই রসালো ফলটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়।

৫. পাকা কলা: পাকা কলার গ্লাইসেমিক সূচক কাঁচা কলার তুলনায় অনেক বেশি থাকে। এর অর্থ হলো পাকা কলা খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। একটি মাঝারি আকারের পাকা কলায় প্রায় ২০-২৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পাকা কলা পরিহার করা উচিত। কাঁচা কলা অবশ্য সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ফল:

ডায়াবেটিস রোগীদের কম গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত ফল যেমন বেরি (স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি), পেয়ারা, পেঁপে এবং নাশপাতি খাওয়া উচিত। এই ফলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং এগুলি ধীরে ধীরে চিনি নিঃসরণ করে। এছাড়াও, বাদাম, বীজ বা দইয়ের সাথে ফল খেলে চিনির শোষণ আরও ধীর হয়। যেকোনো ফল খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে দেখুন, যাতে আপনি বুঝতে পারেন আপনার শরীর ফলের প্রতি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সঠিক ফল নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।