হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সুস্থ জীবনযাপন করুন!

বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণের মাত্রা প্রায়শই বিপজ্জনক স্তরের উপরে থাকে। এর ফলে বাড়ছে নানা স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা, যার মধ্যে হাঁপানি অন্যতম। ফুসফুসের এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং আরও অনেক শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। বসন্ত এবং গ্রীষ্মকালে বাতাসে ধুলো, পরাগরেণু এবং অন্যান্য বায়ুবাহিত অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার কারণে এই সময়ে হাঁপানির লক্ষণগুলি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিনের রুটিনে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলা জরুরি।
হাঁপানির কারণ চিহ্নিত করুন: প্রত্যেকের হাঁপানির কারণ ভিন্ন হতে পারে। কারও বিশেষ কোনও খাবার, কারও ধুলোবালি, আবার কারও পোষ্য প্রাণীর লোম কিংবা রাসায়নিক পদার্থের ধোঁয়ার কারণে হাঁপানির সমস্যা বাড়ে। তাই আপনার ঠিক কী কারণে হাঁপানি হচ্ছে, তা শনাক্ত করা জরুরি। সেই কারণগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন: অ্যাজমা রোগীদের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার থাকা উচিত। এই ধরনের খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং যেকোনো ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ভাইরাল সংক্রমণ, যা থেকে হাঁপানি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: হাঁপানির সমস্যা থাকলে সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেও ক্লান্তি আসতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সাঁতার কাটা, যোগ ব্যায়াম, হাঁটার মতো মাঝারি ধরনের ব্যায়াম এক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে বাইরে শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে যখন বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকে, তখন ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করুন।
মানসিক চাপ কমান: মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা হাঁপানির কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হাঁপানি রোগীদের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সাহায্য নিন।
ধূমপান ত্যাগ করুন: সিগারেটের ধোঁয়ায় প্রায় চার হাজারেরও বেশি রাসায়নিক থাকে, যা ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর মধ্যে ৫০টিরও বেশি কার্সিনোজেনিক অর্থাৎ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হতে পারে। তাই হাঁপানি রোগীদের ধূমপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা উচিত।
সময়মতো টিকা নিন: ভাইরাল সংক্রমণ হাঁপানির একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই সময় মতো ফ্লু এবং নিউমোনিয়ার টিকা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
ইনহেলার ব্যবহার করুন: ইনহেলার হলো হাঁপানির প্রধান ওষুধ। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। মনে রাখবেন, হাঁপানি একবার কমে গেলেও ফের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনহেলার নেওয়া বন্ধ করবেন না।
সঠিক সতর্কতা এবং নিয়ম মেনে চললে হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তিরাও একটি স্বাভাবিক এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তাই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং উপরে দেওয়া অভ্যাসগুলো মেনে চলুন।