পিরিয়ড মিসের আগেই বুঝুন গর্ভবতী কিনা! প্রথম সপ্তাহেও মিলতে পারে এই ১০ লক্ষণ

গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে নারীর শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায়। যদিও বেশিরভাগ নারী মাসিক বন্ধ হলেই গর্ভধারণের বিষয়টি প্রথম সন্দেহ করেন। তবে পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই, এমনকি গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহেই শরীরে একাধিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পিরিয়ড নিয়মিত থাকা সত্ত্বেও নারী গর্ভবতী হতে পারেন।

পিরিয়ড মিস ছাড়াও আরও বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে যা গর্ভবতী হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক গর্ভবতী হয়েছেন কিনা, তা কোন কোন লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে:

১. মর্নিং সিকনেস:

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুর্বল ও ক্লান্তি বোধ করা গর্ভধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে এর নাম মর্নিং সিকনেস হলেও এটি দিনের বা রাতের যেকোনো সময় হতে পারে। গর্ভধারণের পর থেকেই অনেক নারী এই সমস্যা অনুভব করতে শুরু করেন।

২. বমি:

গর্ভধারণের ৪-৬ সপ্তাহ পর বমি শুরু হতে পারে। এই সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বমি বমি ভাব হয় এবং দিনের যেকোনো সময় একাধিকবার বমি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৮০ শতাংশ নারী বমির সমস্যায় ভোগেন।

৩. স্তনে পরিবর্তন:

গর্ভধারণের পর থেকেই স্তনে ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা ভারী হওয়ার অনুভূতি পান প্রায় সব নারীই। কারও কারও ক্ষেত্রে গর্ভধারণের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই স্তনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

৪. ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ:

গর্ভবতী নারীদের মধ্যে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা স্রাব বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে এই সমস্যা বেশি হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের ফলেই এই ডিসচার্জ হয়ে থাকে।

৫. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি:

গর্ভধারণের আরেকটি লক্ষণ হলো শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া। গর্ভধারণকালে প্রোজেস্টেরোনের স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনটি ঘটতে পারে।

৬. ক্লান্তি ও দুর্বলতা:

গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক নারীই অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করেন। শারীরিকভাবে তেমন পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও এই ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

৭. ব্লিডিং:

পিরিয়ডের স্বাভাবিক তারিখ ছাড়াও যদি হঠাৎ কখনো ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং হয়, তবে অবশ্যই প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করানো উচিত। ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং, হালকা স্পটিং এবং পেটে হালকা ক্র্যাম্প গর্ভধারণের ইঙ্গিত দিতে পারে।

৮. মুড সুইং:

গর্ভধারণকালে মুড সুইং বা মানসিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন এবং মাথা ঘোরার লক্ষণ খুবই সাধারণ। এই সময় হরমোনের নানা পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ কান্না আসা, রেগে যাওয়া, আনন্দিত হওয়া অথবা অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে।

৯. মাথাব্যথা:

গর্ভবতী হওয়ার পরপরই অনেক নারী প্রায়শই মাথাব্যথা অনুভব করেন। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ত সঞ্চালন এবং হরমোনের মাত্রায় বৃদ্ধির কারণে এমনটা হয়ে থাকে।

১০. টয়লেটের প্রবণতা বৃদ্ধি:

গর্ভধারণের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি। ওভিউলেশন প্রক্রিয়ার পর গর্ভধারণ সফল হলে, স্বাভাবিকের চেয়ে দিনে বেশিবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব হতে পারে। গর্ভাবস্থায় শরীরের রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি অধিক পরিমাণে তরল নিঃসরণ করে, যা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করান।