আট ঘণ্টাই যথেষ্ট নয়? অতিরিক্ত ঘুমও ডেকে আনতে পারে বিপদ!

অনেকেরই মনে হয়, আট ঘণ্টার ঘুমও তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। অতিরিক্ত ঘুম শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। যেমন অল্প ঘুম শরীরে নানা সমস্যা ডেকে আনে, তেমনই অতিরিক্ত ঘুমও শরীরে একাধিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি ঘুম নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত জরুরি।

আজ জেনে নিন ঘুম নিয়ন্ত্রণ করার কয়েকটি সহজ উপায়:

১. ঘুমের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ:

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। নিয়মিতভাবে এই অভ্যাস বেশ কিছুদিন ধরে বজায় রাখলে আপনার শরীর একটি নির্দিষ্ট ছন্দে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। ঘুমের এই স্বাভাবিক ছন্দটিকে কোনোভাবেই ভাঙতে দেবেন না। সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনেও একই নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন।

২. কার্যকর অ্যালার্মের ব্যবহার:

শুধু অ্যালার্ম দিলেই যথেষ্ট নয়, সেই অ্যালার্মে আপনার ঘুমও ভাঙতে হবে। যদি এক ধরনের অ্যালার্মে আপনার ঘুম না ভাঙে, তবে বিছানার আশেপাশে দুই-তিনটি ভিন্ন স্থানে অ্যালার্ম সেট করে রাখতে পারেন। অ্যালার্ম বন্ধ করার জন্য বিছানা থেকে উঠতে বাধ্য হলে ঘুম ভাঙার সম্ভাবনা বাড়ে।

৩. ছুটির দিনে ঘুমের নিয়ম:

অনেকেরই ধারণা, সপ্তাহের একটি ছুটির দিনে বেশি করে ঘুমিয়ে নিলে বাকি ছয় দিন সতেজ থাকা যাবে। তবে এই ধারণাটি সঠিক নয়। বরং প্রতিদিন ঘুমের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। শরীর যখন বেশি ঘুমের আরাম পায়, তখন তার চাহিদা আরও বাড়তে থাকে, যা ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করতে পারে। ছুটির দিনেও চেষ্টা করুন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার।

৪. আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ:

আপনার ঘুমের জায়গাটি আরামদায়ক হওয়া অপরিহার্য। শোবার ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা রাখুন। ঘুমানোর আগে সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি) বন্ধ করে দিন। আপনার বালিশ এবং বিছানার গদি যেন আপনার অস্বস্তির কারণ না হয়, তেমন মনে হলে তা দ্রুত পরিবর্তন করুন। আরামদায়ক বিছানা এবং নীরব পরিবেশ গভীর ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি আপনার ঘুমের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে একটি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন। অতিরিক্ত ঘুমের কুফল এড়াতে আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো শুরু করুন।