সন্তানের সঙ্গীর দুর্ব্যবহার? চুপ করে না থেকে যেভাবে পাশে থাকবেন

যে সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের এত স্বপ্ন, স্বাদ, আহ্লাদ ও ভালোবাসা, সেই সন্তান যদি আজ কঠিন সময় পার করে! এত আদর ও যত্নে লালন-পালন করার পরেও যদি তাদের জীবনসঙ্গী তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার না করে এবং তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা সুখী না হয়, তবে তা যেকোনো পিতামাতার জন্য দেখা ও সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন।
এই পরিস্থিতিতে অনেক বাবা-মা অসহায় ও ক্ষমতাহীন বোধ করেন এবং মনে করেন তাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু মনোবিদরা বলছেন, আপনার সন্তানকে সমর্থন করার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার আছে এবং আপনি তাদের জানাতে ও সাহায্য করতে পারেন যে একটি খারাপ বা বিষাক্ত সম্পর্ক ত্যাগ করার মধ্যে কোনো ভুল নেই।
আপনাকে বুঝতে হবে, সম্পর্কের মধ্যে দুর্ব্যবহার মানে সঙ্গীর সঙ্গে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নয়, বরং তা শারীরিক বা মানসিকভাবে নিপীড়ন। মানসিক, মৌখিক এবং যৌন নির্যাতনও বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহার যা আপনার সন্তানের কখনোই সহ্য করা উচিত নয়।
অপব্যবহার চেনা কঠিন হতে পারে:
অনেক ক্ষেত্রে আমরা অপব্যবহারকারীকে চিনতে ভুল করি, বিশেষ করে যখন এটি শারীরিক না হয়। তখন আমরা মনে করি এটি হয়তো সহ্য করা সহজ। কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না একটি তিক্ত ও টানাপোড়েনের সম্পর্ক একজন মানুষকে ভেতর থেকে কতটা আঘাত করতে পারে। শারীরিক, যৌন, মৌখিক, মানসিক, আর্থিক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহার হতে পারে।
সন্তানের দিকে খেয়াল রাখুন:
যদি নির্যাতনের কোনো শারীরিক লক্ষণ না থাকে, তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপব্যবহার চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে। আপনি যদি একজন অভিভাবক হন এবং আপনার সন্তানের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত অপব্যবহারের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন:
অতিরিক্ত উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা ও নার্ভাসনেস
আগে পছন্দের ছিল এমন কাজ থেকে সরে আসা
অত্যধিক আবেগপ্রবণতা
পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া
সঙ্গীর প্রসঙ্গ উঠলে ভয় বা অস্বস্তি অনুভব করা
সঙ্গীর অপব্যবহারের কিছু লক্ষণ:
আপনার সন্তানের সঙ্গীর আচরণেও কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে যা অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়:
সঙ্গীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা
অতিরিক্ত ঈর্ষা পরায়ণতা
সবকিছুর জন্য অন্যকে দোষারোপ করা
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
সহজেই রেগে যাওয়া
আপনার করণীয়:
আপনি যদি আপনার সন্তানের মধ্যে উপরে উল্লেখিত অপব্যবহারের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখতে পান, তাহলে আপনার প্রথম কাজ হলো তাদের সঙ্গে কথা বলা। তাদের জীবনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আপনার আছে, কারণ আপনি তাদের জীবন দিয়েছেন। অপব্যবহার আপনার সন্তানের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হতে পারে এবং আপনার সাহায্য ও যত্ন তাদের এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে অনেক দূর পর্যন্ত সাহায্য করতে পারে। তাদের জানান যে তারা একা নয় এবং আপনি তাদের পাশে আছেন। প্রয়োজনে পেশাদার মনোবিদের সাহায্য নিতে উৎসাহিত করুন। আপনার সমর্থন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা আপনার সন্তানের একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন ফিরে পেতে সহায়ক হতে পারে।