সাদা না গোলাপি? কোন পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেরা, জানুন!

পেয়ারা একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং সহজলভ্য ফল। যা এখন প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। ভিটামিন এ, বি, কে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফসফরাসের মতো বহু পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, সব ধরনের পেয়ারায় কি একই রকম পুষ্টিগুণ বিদ্যমান? স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে তাইওয়ানের গোলাপি পেয়ারা আজকাল বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, গোলাপি শাঁসযুক্ত পেয়ারায় জল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ সাদা শাঁসের পেয়ারার তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে। তবে শর্করা ও ভিটামিন সি-এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে, সাদা শাঁসের পেয়ারায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকলেও তা গোলাপি শাঁসের পেয়ারার সমতুল্য নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন এ, সি, ওমেগা ৩, ওমেগা ৬ পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ডায়েটারি ফাইবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিদ্যমান থাকায় গোলাপি শাঁসযুক্ত পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ‘সেরা ফল’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর কারণ হলো, এর কম শর্করা এবং উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
পেয়ারা খাবেন যে কারণে:
১) রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়ক।
২) হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩) ঋতুস্রাবজনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৪) হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।
৫) ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৬) ক্যানসার প্রতিরোধে কিছু উপাদান বিদ্যমান।
৭) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৮) দাঁত, ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপকারী।
তাই, পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতার বিচারে আপনার খাদ্য তালিকায় গোলাপি পেয়ারা যোগ করা এক বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে, বিশেষত যদি আপনি ডায়াবেটিসের মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে যেকোনো ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেই পরিমিত আহার জরুরি।