গরমে হঠাৎ ঠান্ডা লাগা? জেনে নিন এর কারণ ও সুরক্ষার উপায়

গরমকালে তাপমাত্রা সবসময় একইরকম থাকে না। এই সময়ে তাপমাত্রা খুব দ্রুত ওঠানামা করে। আর এই অসহ্য গরমে বাইরে বের হলেই ঘামে ভিজে অবস্থা হয়। তাই অনেকেই রোদ থেকে ঘরে ফিরেই ঠান্ডা জলে স্নান করেন। অথবা গরমে একটু শান্তি পেতে ঘন ঘন স্নান করেন। এতে হয়তো সাময়িক আরাম পাওয়া যায়, তবে এর ফলে শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গরমের সময় শরীরের তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন জ্বর, সর্দি-কাশি ডেকে আনে। তীব্র রোদ থেকে হঠাৎ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ঘরে প্রবেশ করা অথবা রোদ থেকে ফিরেই শরীরে ঠান্ডা জল দেওয়া শরীরের তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে বুকে কফ জমতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবার সহজেই ভাইরাস জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই এই গরমে সুস্থ থাকতে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:
১. তাপমাত্রার সাথে শরীরের মানিয়ে নেওয়া: যে কোনো তাপমাত্রাতেই শরীরকে অভ্যস্ত করাতে হবে। এসিতে ঢোকার আগে অন্তত ১৫ সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ রাখুন। রোদ থেকে ফিরে কখনোই সাথে সাথে ঠান্ডা জল গায়ে দেবেন না। শরীরকে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিন। পাখার বাতাসে শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে তারপর স্নান করুন।
২. ভিটামিন ডি-এর পর্যাপ্ততা: শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকলে খুব সহজেই ঠান্ডা লাগতে পারে। খেয়াল রাখুন, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যেন যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। ডিমের কুসুম, ফ্যাটি ফিশ, এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
৩. জীবাণুর সংক্রমণ রোধ: মুখ থেকে নিজের হাত দূরে রাখুন। কারণ, হাতের মাধ্যমেই বিভিন্ন জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। নিজের মোবাইল ফোনটিও দিনে একবার জীবাণুনাশক (ডিসইনফেকট্যান্ট) দিয়ে অবশ্যই পরিষ্কার করুন।
৪. জিঙ্ক ও প্রোবায়োটিকের গুরুত্ব: শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে জিঙ্কের প্রয়োজন হলে জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। কুমড়োর বীজ, বাদাম, এবং বিভিন্ন শস্যে জিঙ্ক পাওয়া যায়। প্রোবায়োটিক-যুক্ত খাবার খেলে ফ্লুয়ের প্রকোপ কমানো সহজ হয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টক দই অন্তর্ভুক্ত করুন।
৫. পর্যাপ্ত জল পান: জ্বরে আক্রান্ত হলে সারাদিনে অন্তত চার লিটার জল পান করা উচিত। শুধু জল নয়, স্যুপ বা ডাল জাতীয় তরলও এক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয় এবং শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা করে।
৬. চিকিৎসকের পরামর্শ: নিজে থেকে কিনে কাফ সিরাপ খাবেন না। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে গরমের সময়েও আপনি ঠান্ডা লাগা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য related সমস্যা এড়াতে পারবেন। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।