পার্লার নয়, ঘরোয়া উপায়ে করুন কেরাটিন ট্রিটমেন্ট, ফিরে পান ঝলমলে চুল!

চুলের যত্নে বর্তমানে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট বেশ জনপ্রিয়। পার্লার বা বিউটি স্যালনগুলোতে চুলের হারানো কেরাটিন ফিরিয়ে আনার জন্যই এই ট্রিটমেন্ট করানো হয়।
কেরাটিন হলো আমাদের চুলে প্রাকৃতিকভাবে থাকা একটি প্রোটিন। সূর্যের আলো, দূষণ এবং রাসায়নিক সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহারের কারণে এই প্রোটিনের পরিমাণ কমতে শুরু করে। এর ফলে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত।
অনেকেই এই সমস্যার সমাধানে বিউটি স্যালনে গিয়ে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করান। তবে কর্মব্যস্ত জীবন, চুলের ক্ষতির ভয় অথবা অতিরিক্ত খরচ – এই সমস্ত কারণে অনেকে পেশাদার কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন না। তবে জেনে রাখা ভালো, চাইলে ঘরোয়া পদ্ধতিতেও করা সম্ভব এই হেয়ার কেরাটিন ট্রিটমেন্ট।
আপনার চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন আছে কি না, তা বুঝবেন কীভাবে?
যদি দেখেন আপনার চুল অতিরিক্ত উসকো খুশকো হয়ে যাচ্ছে।
আঁচড়ানোর পরেও চুল অগোছালো বা ফুলে ফুলে থাকছে এবং সহজে সেট করা যাচ্ছে না।
চুলের আর্দ্রতার অভাব ঘটলে চুলের আগা শক্ত হয়ে যায়। এক গোছা চুল ধরে আগার দিকে লক্ষ্য করুন। চুলের আগা নিচের দিকে ঝুলে থাকার বদলে যদি সোজা হয়ে থাকে।
এই লক্ষণগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন আপনার চুলের কেরাটিন নষ্ট হয়ে গেছে এবং কেরাটিন ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন।
ঘরোয়া উপায়ে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার পদ্ধতি:
কেরাটিন মাস্ক তৈরির জন্য যা যা লাগবে:
সাদা চালের নরম ভাত (পরিমাণমতো)
নারকেলের দুধ (৬ টেবিল চামচ)
নারকেল তেল (২ টেবিল চামচ)
কেরাটিন মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম:
১. প্রথমে ভাত ও নারকেলের দুধ খুব ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। খেয়াল রাখবেন, নারকেলের দুধের পরিমাণ চালের দ্বিগুণ হওয়া জরুরি। মিশ্রণটি মসৃণ ক্রিমের মতো হতে হবে।
২. এরপর এই মিশ্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন।
৩. মাস্ক তৈরি হয়ে গেলে তা চুলে লাগানোর পালা। অল্প অল্প করে চুল নিয়ে আগা থেকে শুরু করে গোড়া পর্যন্ত এই মাস্ক ব্যবহার করুন।
৪. সমস্ত চুলে সমানভাবে ক্রিম লাগানো হয়ে গেলে চুল খোলা রাখুন। যদি চুল ছোট হয় তবে খোলা রাখতে পারেন। লম্বা চুল হলে শুধু একটি হেয়ারব্যান্ড দিয়ে আলতো করে পনিটেইল করে রাখুন। বেশি পেঁচিয়ে বাঁধবেন না।
৫. কেরাটিন মাস্ক চুলে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত রাখতে হবে।
৬. নির্ধারিত সময় পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। শুধু জল দিয়ে ধুলে প্যাক ভালোভাবে পরিষ্কার হবে না।
৭. শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
৮. চুল হালকা ভেজা থাকা অবস্থাতেই হেয়ার আয়রন করে নিন।
এবার আয়নায় তাকালেই দেখতে পাবেন আপনার চুলে ফিরে এসেছে সেই হারিয়ে যাওয়া চকচকে ভাব।
তবে ঘরোয়া কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করার আগে অবশ্যই চুল ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। কখনোই ঘষে ঘষে চুলে প্যাক ব্যবহার করবেন না। চুলের একেকটা গোছা ধরে আলতো হাতে উপর থেকে নিচের দিকে মাস্ক লাগাতে হবে। এই মাস্ক স্ক্যাল্পে লাগালেও কোনো ক্ষতি নেই, কারণ চুলের ভেতরে প্রোটিন প্রবেশ করাই মূল উদ্দেশ্য। যাদের চুল সামান্য রুক্ষ্ম, তারা ঘরোয়া এই উপায়ে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। ভালো ফলাফল পেতে মাসে সর্বোচ্চ দুবার এই ট্রিটমেন্ট করুন।