সন্তান কি ইন্টারনেট আসক্ত? দূরে রাখার সহজ টিপস

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ছাড়া জীবন প্রায় অচল। তথ্যের অবাধ প্রবাহ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বহু সমস্যার সমাধানে ইন্টারনেট অপরিহার্য। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক শিশুই ইন্টারনেটের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে ভুল তথ্যের শিকার হওয়া থেকে শুরু করে পর্নোগ্রাফির মতো ক্ষতিকর কনটেন্টে আকৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এই দিকগুলোতে অভিভাবকদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সন্তানকে ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখতে কিছু কার্যকর টিপস নিচে উল্লেখ করা হলো—
১) সন্তানের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখুন:
আপনার সন্তান ইন্টারনেটে কী দেখছে বা কী করছে, সে বিষয়ে নিয়মিত খেয়াল রাখুন। শিক্ষামূলক ও মজার ভিডিও নিজেরাই ইউটিউব থেকে বেছে নিয়ে সন্তানদের দেখাতে পারেন। বাসার টিভি বা অন্যান্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইস এমন ঘরে রাখুন যেখানে সবার অবাধ যাতায়াত আছে এবং কে কী দেখছে তা সহজেই নজরে আসে। সন্তানের ঘরে যদি টিভি বা কম্পিউটার থাকে, তাহলে ব্যবহারের সময় দরজা খোলা রাখতে বলুন। সন্তান বড় হলে এবং নিজে কম্পিউটার চালাতে পারলে তাকে রুটিন মেনে চলার গুরুত্ব বোঝান এবং নিয়ম না মানলে সাময়িক সময়ের জন্য ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার মতো শাস্তির ব্যবস্থা করুন। বয়সের সাথে সাথে সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা বাড়লে নজরদারি আরও জোরদার করুন।
২) ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করুন:
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করুন। যেমন—দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করতে পারবে অথবা হোমওয়ার্ক শেষ করার পরেই ব্যবহার করতে পারবে ইত্যাদি। আপনার সন্তান যদি কিশোর বা তার চেয়ে বড় হয়, তাহলে তাকে রুটিন মেনে চলার বিষয়ে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলুন এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে সপ্তাহখানেকের জন্য কম্পিউটার বা ফোন ব্যবহার করতে না দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিন। সন্তানের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিয়ম পালনের উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
৩) বাবা-মা উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা:
এই ক্ষেত্রে বাবা-মা দু’জনকে একযোগে কাজ করতে হবে। ইন্টারনেটের ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে দু’জনকেই সন্তানকে বোঝাতে হবে। এমন যেন না হয় যে বাবা ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধ করছেন, আর মা তার বিপরীত কথা বলছেন। এতে সন্তানের ক্ষতিই হবে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা কমার পরিবর্তে বরং বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪) বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন:
যেসব সন্তান কম্পিউটারে গেম খেলতে অভ্যস্ত অথবা কম্পিউটার সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে, তাদের কাছে লেখাপড়া অনেক সময় বিরক্তিকর মনে হতে পারে। মোবাইল বা কম্পিউটারে খুব অল্প সময়েই লেখা ও পড়া যায় এবং যেকোনো কাজ সহজেই করা যায়। তাই তারা সেখানেই বেশি সময় কাটাতে চায়। এক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিন আপনার সন্তানকে বই পড়ে শোনান এবং তাদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করুন। যখন তারা নিজেরাই পড়তে শিখবে, তখন ইন্টারনেটের প্রতি তাদের আসক্তি অনেকাংশে কমে যাবে।
৫) যা শেখাচ্ছেন, তা নিজে অনুসরণ করুন:
আপনি যদি সারাক্ষণ ইন্টারনেটে আসক্ত থাকেন এবং সন্তানকে ইন্টারনেট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন, তাহলে তা খুব একটা কার্যকর হবে না। সন্তানেরা তাদের বাবা-মাকে দেখেই শেখে। তাই নিজেরাও এসব গ্যাজেট ব্যবহার করা কমান। ভার্চুয়াল জগতের চেয়ে বাস্তব জগতকে বেশি গুরুত্ব দিন। সন্তানদের সাথে সময় কাটান, তাদের সাথে খেলুন, তাদের ভালো কিছু শেখান এবং এই সময় নিজের ল্যাপটপ বা ফোন বন্ধ রাখুন।
এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার সন্তানকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এবং একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে উৎসাহিত করতে পারেন।