ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়ক কিছু খাবার

ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে এক আতঙ্কের নাম। এই রোগ ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে শরীরে ইলেকট্রোলাইট ও প্লাটিলেটের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, প্লাটিলেটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক খাবার গ্রহণ করা উচিত।

প্লাটিলেট কী?

প্লাটিলেট হলো মানব রক্তের তিন ধরনের ক্ষুদ্র রক্তকণিকার মধ্যে সবচেয়ে ছোট। একে বাংলায় অণুচক্রিকাও বলা হয়। এই অণুচক্রিকা অস্থিমজ্জায় উৎপাদিত হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যেসব খাবার প্লাটিলেট বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:

ব্রোকলি: ভিটামিন কে-এর সমৃদ্ধ উৎস ব্রোকলি রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ব্রোকলি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপকারী খনিজ পদার্থেও ভরপুর।

পালংশাক: আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস পালংশাক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।

মিষ্টি কুমড়া: ভিটামিন এ সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি সরাসরি অথবা জুস করে খাওয়া যেতে পারে।

শিম: ভিটামিন বি নাইন সমৃদ্ধ শিম প্লাটিলেটের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গাজর: দৃষ্টিশক্তির জন্য উপকারী গাজর রক্তের প্লাটিলেটও বৃদ্ধি করে। নিয়মিত গাজরের জুস পান করা যেতে পারে। এছাড়াও সালাদ বা স্যুপের সাথেও এটি খাওয়া যায়।

পেঁপে: প্লাটিলেট বাড়াতে পেঁপের জুস অত্যন্ত কার্যকর। এমনকি পেঁপে পাতাও অণুচক্রিকা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

বেদানা: প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খনিজ উপাদানে ভরপুর বেদানা শরীরের দুর্বলতা কাটাতে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাতে পারে। এটি আয়রনেরও একটি ভালো উৎস, যা রক্তের জন্য উপকারী। ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় প্লাটিলেটের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে এটি সহায়ক।

রসুন: উপকারী এই মসলা রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনে থাকা থ্রম্বোক্সেন এ টু নামক উপাদান প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিনের খাবারে রসুন যোগ করুন অথবা দুই-তিন কোয়া রসুন আলাদাভাবেও খেতে পারেন।

কিসমিস: প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ কিসমিস শরীরে শক্তি যোগায় এবং রক্তের প্লাটিলেট স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি ওটমিল বা টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

তিলের তেল: পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তিলের তেল ব্লাড প্লাটিলেট বৃদ্ধির একটি কার্যকর ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রোটিন: মুরগির মাংস ও মাছের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরে জিংক ও ভিটামিন বি টুয়েলভের যোগান দেয়, যা প্লাটিলেট উৎপাদনে সহায়ক।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি এই খাবারগুলো গ্রহণ করে প্লাটিলেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করুন।