শরীরে পটাশিয়ামের অভাব? ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ! জেনে নিন লক্ষণ ও সমাধানের উপায়

শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য পটাশিয়াম একটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। এটি স্নায়ুর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে মাংসপেশির সমন্বয় এবং শরীরে তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পটাশিয়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করা।
চিকিৎসা পরিভাষায়, শরীরে পটাশিয়ামের অস্বাভাবিক ঘাটতি দেখা দিলে তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়। এই পরিস্থিতি তখনই সৃষ্টি হয় যখন কোনো ব্যক্তির রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ৩.৬ মিলিমোলের নিচে নেমে যায়।
প্রায়শই দেখা যায়, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম না থাকার কারণে শরীরে এই খনিজটির অভাব ঘটে। এর ফলে বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে পটাশিয়ামের অভাব শরীরে আরও বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, শরীরে পটাশিয়ামের অভাব হলে দুশ্চিন্তা মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঘুমের উপর, যা ক্রমশ অনিদ্রার দিকে ধাবিত করে। এছাড়াও, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যখন শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, অর্থাৎ অতিরিক্ত লবণ খাওয়া হয়, তখন এই বিপদ আরও বাড়ে।
পটাশিয়াম রক্ত প্রবাহকে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দেয়, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এটি সোডিয়ামের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনও হাইপোক্যালেমিয়া বা পটাশিয়াম ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হলে প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
শরীরে পটাশিয়ামের অভাব দেখা দিলে শরীরে শক্তির অভাব অনুভূত হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্তি গ্রাস করে। এছাড়াও, পটাশিয়ামের অভাবে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে, কারণ পাচন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
তবে সুখবর হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করা সম্ভব। শরীরে পটাশিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে নিম্নলিখিত খাবারগুলো অবশ্যই খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত:
আলু
ডালিম
রাঙা আলু
পালং শাক
সাদা বিন
ডাবের জল
বিট
সয়াবিন
টমেটো
তাই, নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিন এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে সুস্থ থাকুন। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।