শুধু বেতনই যথেষ্ট নয়! কর্মীদের ধরে রাখতে এই ৫ বিষয় মাথায় রাখুন

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য থাকে দক্ষ ও মেধাবী কর্মীদের ধরে রাখা এবং তাদের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক বজায় রাখা। এই উদ্দেশ্য পূরণে বিভিন্ন সংস্থা নানা ধরনের পদক্ষেপও নিয়ে থাকে। তবে, আজও অনেক সংস্থাই মনে করে কর্মীদের আকর্ষণীয় বেতন দেওয়াই তাদের ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।
উচ্চ বেতন কি সত্যিই কর্মক্ষেত্রে মেধার ঘাটতি পূরণের একমাত্র সমাধান? দ্য অ্যাডেকো গ্রুপের ‘গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স অফ দ্য ফিউচার’ সমীক্ষা কিন্তু অন্য কথা বলছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে যেসব কর্মীরা চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের অন্য সংস্থায় যোগদানের অন্যতম প্রধান কারণ অবশ্যই বেতন। তবে, শুধু বেতন বৃদ্ধিই কি একমাত্র সমাধান? উত্তর হলো, মোটেই না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেতন ছাড়াও আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে যা কর্মীদের একটি সংস্থায় দীর্ঘকাল ধরে রাখতে পারে। আসুন, সেই কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক:
১. কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্টি: সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন কর্মীর মধ্যে ৪ জন তাদের কর্মক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট হয়ে চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন। এছাড়াও, ৪ জনের মধ্যে ১ জন কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি থেকে বিরতি নিতে চান। তাই, কর্মীদের ধরে রাখতে হলে সংস্থাগুলোকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে কর্মীরা খুশি ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কর্মীদের কাজের চাপ কমানো এবং তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. চাকরির নিরাপত্তা: বেতন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে সমীক্ষা অনুযায়ী ৩৮ শতাংশ কর্মী বেতনের চেয়েও কর্মক্ষেত্রে চাকরির নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেন। কর্মীদের মধ্যে যদি তাদের চাকরি হারানোর ভয় থাকে, তবে তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে দ্বিধা বোধ করেন এবং সুযোগ পেলেই অন্য সংস্থায় চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখান। তাই, কর্মীদের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা বোধ তৈরি করা জরুরি।
৩. কর্ম ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য: বর্তমান যুগে কর্মীদের কাছে কর্মজীবনের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ কর্মী এমন সংস্থাকে প্রাধান্য দেন যেখানে তাদের কর্মজীবনের সঙ্গে পারিবারিক জীবনের একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। নমনীয় কাজের সময়সূচী এবং ছুটির সুবিধা প্রদান করে সংস্থাগুলো কর্মীদের এই চাহিদা পূরণ করতে পারে।
৪. নমনীয় কাজের সুযোগ: অনেক সংস্থাই কর্মীদের তাদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দিয়ে থাকে। কর্মীদের জন্য দূরবর্তী কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) সুযোগ রাখা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব সংস্থায় কর্মীদের ছুটি এবং নিজেদের মতো করে কাজ করার সুযোগ থাকে, কর্মীরা সেইসব সংস্থাতেই দীর্ঘকাল ধরে থাকতে চান। কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা প্রদান করলে তাদের কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।
৫. সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকলে কর্মীরা সহজে সংস্থা পরিবর্তনের কথা ভাবেন না। একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং দলের সদস্যদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া কর্মীদের কাজের প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করে এবং তাদের সংস্থায় থাকার আগ্রহ বাড়ায়।
সুতরাং, কর্মীদের ধরে রাখতে কেবল বেতন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা, কর্ম ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য, নমনীয় কাজের সুযোগ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক—এই পাঁচটি বিষয়ও কর্মীদের একটি সংস্থায় দীর্ঘকাল ধরে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংস্থাগুলোকে কর্মীদের এই চাহিদাগুলো পূরণের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।