খাওয়ার পর মুখে জোয়ান? জেনে নিন ১৫টি রোগ দূরে রাখার মূলমন্ত্র!

খাওয়ার শেষে অনেকেই অভ্যাসের বশে মুখে জোয়ান দিয়ে থাকেন। এটি যেমন মুখকে সতেজ রাখে, তেমনই হজমক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। জোয়ান খাওয়ার এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এটি শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সক্ষম।

জানলে অবাক হবেন, নিয়মিত জোয়ান খেলে ১৫টি রোগ আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারবে না! প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রে জোয়ানের কার্যকারিতার উল্লেখ রয়েছে। বহু শতাব্দী ধরে কফ-কাশি থেকে শুরু করে পেটে ব্যথা ও বদহজমের মতো একাধিক রোগের নিরাময়ে জোয়ান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিয়মিত জোয়ান খেলে কোন কোন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

পেটের সমস্যা সমাধান: চিকিৎসকদের মতে, পেটের যাবতীয় সমস্যা যেমন ব্যথা, গ্যাস, বমি বমি ভাব ও অ্যাসিডিটি দূর করতে পারে জোয়ান। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ল্যাক্সাটাইভস থাকায় বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও নিরাময় হয়। ওজন কমাতেও জোয়ান বেশ কার্যকর। এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে রাতে এক গ্লাস জলে জোয়ান ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সেই জল পান করুন।

পিরিয়ডের ব্যথা কমায়: পিরিয়ডের ব্যথায় বহু নারী প্রতি মাসে কষ্ট পান। এক্ষেত্রে হালকা গরম জলে জোয়ান মিশিয়ে খেলে তলপেট ও কোমরের ব্যথা কমে। তবে রক্তপাত বেশি হলে জোয়ান না খাওয়াই ভালো।

টক্সিন দূর করে: জোয়ান খেলে শরীরের টক্সিন দূর হয়। তাই মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখতে বা দুর্গন্ধ দূর করতে এটি খুব কাজে আসে।

ব্যথানাশক: জোয়ানে থিমল তেল থাকায় এটি যেকোনো ব্যথা কমাতে কার্যকর। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে জোয়ানের তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর্থ্রাইটিস বা গাঁটের ব্যথাও নিরাময় করে জোয়ান।

ঠান্ডা ও কফ দূর করে: জোয়ানে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রভাবে ঠান্ডার সমস্যা কমে। বুকে জমা শ্লেষ্মা কাটাতে জোয়ানের জল খুব উপকারী। এছাড়াও, গলায় ব্যথা হলে জোয়ান ও লবণ মেশানো গরম জলের ভাপ নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

মাথাব্যথা কমায়: জোয়ান মাথাব্যথাও কমাতে পারে। এর জন্য জোয়ানের গুঁড়ো করে একটি কাপড়ে মুড়ে তা শুঁকলে মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে। এমনকি জোয়ান বেটে কপালে লাগালেও মাইগ্রেনের ব্যথা কমে।

ব্রণের দাগ দূর করে: ব্রণের দাগ দূর করতে আক্রান্ত স্থানে জোয়ান বেটে লাগান। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন। ধীরে ধীরে ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি মিলবে। জোয়ানে অ্যান্টি ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি চুল ও ত্বকের ছত্রাকজনিত সংক্রমণও সারে।

ম্যালেরিয়া ও শ্বাসকষ্টে আরাম: জোয়ান খেলে ম্যালেরিয়া জ্বরের শীতের প্রকোপ কমে এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে। এমনকি জোয়ান গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শ্বাসকষ্টও দূর হয়। জোয়ানের আরক খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

অর্শ ও কোমর ব্যথায় উপশম: জোয়ান বাটা ও গুড় সমপরিমাণে মিশিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় অল্প করে খেলে অর্শ্বের ব্যথা কমে এবং কোমর ব্যথা সারে। এছাড়াও, জোয়ান আর তিল একসঙ্গে পিষে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কৃমি নাশ করে: জোয়ান খেলে কৃমি সারে। অনেক শিশুই কৃমির সমস্যায় ভোগে। এই সমস্যা সমাধানে নিয়মিত জোয়ান খেলে উপকার পাওয়া যায়।

অ্যাসিডিটি কমায়: গলা যন্ত্রণা, বুক যন্ত্রণা ও ঢেঁকুর তোলার মতো অ্যাসিডিটির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই কষ্ট থেকে বাঁচতে নিয়মিত জোয়ান খেতে পারেন। এর জন্য প্রতিদিন ১ চামচ জোয়ান ও ১ চামচ লবণ এক গ্লাস হালকা গরম জলে মিশিয়ে খেতে হবে।

দাঁতের মাড়ির সমস্যা দূর করে: দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, মাড়িতে ঘা বা ব্যথা হলে জোয়ান অত্যন্ত কার্যকর। এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্যথার উপশম করতে পারে। নর্থ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা অনুযায়ী, জোয়ান দাঁতের মাড়ির সংক্রমণ দূর করতে পারে। এর জন্য হালকা গরম জলে জোয়ান মিশিয়ে গার্গল করতে পারেন অথবা জোয়ানের তেলও ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি জোয়ান পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলেও ব্যথা কমে।

সুতরাং, খাওয়ার শেষে সামান্য জোয়ান মুখে দেওয়ার অভ্যাস কেবল মুখ সতেজ রাখাই নয়, বরং আপনার শরীরকে বহু রোগ থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। তাই এই অভ্যাসটিকে অবহেলা না করে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন।