বিপদ লুকিয়ে! এই ৫ ফল ও সবজিতে ধোয়ার পরেও থাকে মারাত্মক কীটনাশক

সুস্থ থাকতে সবুজ শাকসবজি ও ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ভিটামিন, প্রোটিন, ফাইবার ও খনিজ উপাদানে ভরপুর এই খাবারগুলো আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে এবং যোগায় প্রয়োজনীয় শক্তি। তবে ফলন বাড়াতে অনেক সবজি ও ফলেই ব্যবহার করা হয় কীটনাশক। এই রাসায়নিক খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে রক্তে মিশে নানা রোগ এমনকি ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধির কারণ হতে পারে।

বাজার থেকে কেনা সবজি বা ফল ভালো করে ধুয়ে খাওয়ার কথা আমরা জানি। তবে কিছু ফল ও সবজি ধোয়ার পরেও কীটনাশকের জীবাণু লেগে থাকতে পারে। সেগুলো কী কী, আসুন জেনে নেওয়া যাক:

১. পালং শাক:

বাজারের বেশিরভাগ পালং শাকেই পার্মাথ্রিন নামক এক ধরনের কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি এক প্রকার নিউরোটক্সিন, যা মানুষ ও পশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সার ও স্নায়ুরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই পালং শাক খাওয়ার আগে লবণ-জলে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

২. আঙুর ও আপেল:

আঙুর ও আপেলের গায়ে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক লেগে থাকে। অনেকেই না ধুয়েই এই ফল দুটি খেয়ে ফেলেন। এই দুটি ফলে ডাইফিনাইলঅ্যামাইন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আঙুর ও আপেল কিনে এনে প্রথমে জলে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর ভালো করে ধুয়ে খান।

৩. পেয়ারা:

পেয়ারা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল, তবে না ধুয়ে খেলে বিপদ হতে পারে। পেয়ারার গায়ে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশকের উপস্থিতি দেখা গেছে। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে লিভারের জটিল রোগ হতে পারে।

শাকসবজি ও ফল কীটনাশকমুক্ত করবেন কীভাবে?

রাসায়নিক মিশ্রিত কোনো দ্রবণে বাজার থেকে কেনা সবজি পরিষ্কার না করাই ভালো। বরং বাড়িতেই তৈরি করে নিন নিরাপদ দ্রবণ:

বেকিং সোডা ও জলের দ্রবণ: একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো বেকিং সোডা মেশান। এই দ্রবণে সবজি ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর তুলে নিয়ে পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেলুন। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ কীটনাশক দূর হবে।

জল ও ভিনেগারের দ্রবণ: সমপরিমাণ জল ও ভিনেগার মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করুন। এর সাথে এক চিমটি লবণ মেশান। কাঁচা সবজি, শাক ও ফল এই দ্রবণে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। তারপর তুলে পরিষ্কার জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সালাদ তৈরির আগে এই উপায়ে সবজি ধুয়ে নেওয়া স্বাস্থ্যকর।

তাই সুস্থ থাকতে ফল ও সবজি খাওয়ার পাশাপাশি সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিষ্কার করাও জরুরি। এই সহজ পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে আপনি আপনার খাবারকে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারবেন।