চোখ অতিরিক্ত হলুদ? সাবধান! হতে পারে মারাত্মক রোগ

চোখের সাদা অংশ অস্বাভাবিকভাবে হলুদ হয়ে যাওয়াকে অনেকেই হয়তো তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এটি হেপাটাইটিস বা জন্ডিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। আর এই জন্ডিস ধীরে ধীরে একটি মারাত্মক রোগের রূপ নিতে পারে। সময় মতো রোগ নির্ণয় করতে না পারলে এর ফল হতে পারে লিভার ক্যান্সার এবং পরিণতিতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় জন্ডিসের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের গ্রহণ করা খাদ্য ও পানীয়কে পরিশোধন করে। এর মাধ্যমেই শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়। শুধু তাই নয়, শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন এবং পুরনো রক্ত কোষগুলিকে শরীর থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে এই স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, আর এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়।

তাই জন্ডিসের মতো কঠিন রোগ থেকে বাঁচতে হলে লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যেককেই সচেতন থাকতে হবে। এই মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সেই বিষয়ে আলোকপাত করা হলো:

১. পর্যাপ্ত জল পান: সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অপরিহার্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে অন্তত ১০-১২ গ্লাস জল অবশ্যই পান করা উচিত। এটি লিভারের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

২. উপকারী পানীয় ও ফল: ডাবের জল একটি অত্যন্ত উপকারী পানীয়। এছাড়াও, লেবু, আনারস, আম এবং পাকা পেঁপের মতো ফল জন্ডিস প্রতিরোধে এবং লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. রাস্তার খাবার বর্জন: রাস্তার খোলা খাবার, যেমন কাটা ফল বা অস্বাস্থ্যকর শরবত এবং অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এই ধরনের খাবার থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে যা লিভারের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ: বাড়িতে তৈরি হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার খান। খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। এটি হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক রাখতে এবং লিভারের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

৫. মিষ্টি ও মদ্যপান পরিহার: চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। সেইসঙ্গে মদ্যপান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা উচিত। অ্যালকোহল লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং জন্ডিসের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, চোখের সাদা অংশে সামান্য হলুদ ভাব দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমেই এই মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই আর দেরি না করে আজ থেকেই লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যত্নবান হন।