সম্পর্কে বিশ্বাস রাখা জরুরি, তবে চোখ কান খোলা রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ

আপনি যখন একটি সম্পর্কে থাকবেন সঙ্গীকে বিশ্বাস করা জরুরি। কিন্তু তাই বলে চোখ কান বন্ধ রাখাটাও ভুল বলে মনে করেন কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করেন এমন অনেকে। তাদের মতে, একে অন্যের ওপর ভরসা না করলে যেমন সম্পর্ক বেশিদিন টেকানো মুশকিল তেমনি সম্পর্ক নিয়ে কোনো ঝামেলায় যেন পড়তে না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকাটাও দরকার। এজন্য সঙ্গীর আচার-আচরণ খেয়াল রাখার পরামর্শ তাদের।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রিয়জন যখন আপনাকে ধোঁকা দেয়, কিছু লক্ষণ দেখে সেগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ভালোবাসায় অন্ধ হওয়ায় প্রিয়জনের কোনো ভুলত্রুটিই অনেক সময় মানুষের চোখে পড়ে না। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে লক্ষণগুলি ধরতে পারা যায়। কী কী লক্ষণে সঙ্গীর বিষয়ে সতর্ক থাকতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন তারা।

অতিরিক্ত সহানুভূতি চাওয়া: আপনার সঙ্গী যদি বারবার সহানুভূতি চায়, তাহলে সতর্ক থাকুন। আসলে অনেকেই অন্যের সামনে বিশেষ সহানুভূতি দাবি করেন। এই ধরনের সহানুভূতিকে তারা আশ্রয় করেন অন্তরের বিভিন্ন খারাপ জিনিস লুকিয়ে রাখতে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে।

দ্রুত বন্ধুত্ব স্থাপন: সঙ্গী যদি আপনাকে এড়িয়ে মুহূর্তেই অন্য কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে থাকেন, তাহলে বুঝবেন তার সমস্যা আছে। কারণ এভাবে অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করা ভালো লক্ষণ নয়। সেই বন্ধুত্ব যদি গায়ে পড়া স্বভাবের হয় তাহলে তো সম্পর্কের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। এটি সম্পর্কের গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

বারবার মিথ্যা বলা: একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে একে অপরের মধ্যে ভালোবাসা থাকা জরুরি। পরস্পরের প্রতি ভরসা রাখতে হবে। তবে অনেকেই সঙ্গীর বিশ্বাস অর্জন করতে বারবার মিথ্যা বলেন। আপনার সঙ্গীও যদি এমন স্বভাবের হন তাহলে সতর্ক হতে হবে। মিথ্যা বলার প্রবণতা সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

মনগড়া কথা বলা: মানুষের মধ্যে সততার অভাব থাকলে একে অপরের সঙ্গে মনগড়া কথা বলতে শুরু করেন। আপনার মন রাখার জন্য হোক বা নিজেকে ঢাকার জন্য যদি সঙ্গী মনগড়া কথা বলেন বা আপনাকে মানানোর চেষ্টা করেন তাহলে বুঝবেন কোনো সমস্যা আছে। এই ধরনের আচরণ বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।

ঘন ঘন সম্পর্ক পরিবর্তন: কিছু মানুষ ঘন ঘন সম্পর্ক বদলান। এমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে দুইবার ভাবুন। সবারই উচিত সঙ্গীর অতীত সম্পর্কে জেনে বুঝে তবেই নতুন সম্পর্কে জড়ানো। অতীত অভিজ্ঞতা অনেক সময় বর্তমান সম্পর্কের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস যেমন অপরিহার্য, তেমনই সঙ্গীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ। কোনো প্রকার সন্দেহ দেখা দিলে সরাসরি সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।