বাতের ব্যথা বাড়াতে পারে এই ৭ খাবার, জেনে নিন এখনই!

বাতের ব্যথার কষ্ট কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। এই একটি সমস্যা জীবনের সমস্ত আনন্দ মাটি করে দিতে যথেষ্ট। অনেকের ধারণা, বাতের সমস্যা কেবল বয়স্কদেরই হয়। তবে এটি মোটেও সত্যি নয়। যেকোনো বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাতের কারণে অসহ্য ব্যথা এবং হাড়ের জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা আমাদের শরীরের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে হলে কী খাচ্ছি সেদিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা খেলে বাতের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। সেই খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে রাখা এবং সেগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে বাতের সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৭টি খাবার সম্পর্কে, যা বাতের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে-
১. প্রক্রিয়াজাত খাবার:
প্রক্রিয়াজাত খাবার বাতের ব্যথা বৃদ্ধি করতে পারে। ক্যানড ফুড, বেকড ফুড, ফ্রোজেন ফুড, ফাস্ট ফুড কিংবা প্যাকেটজাত স্ন্যাকসই হোক না কেন, এই ধরনের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণগুলো বাতের সমস্যা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে লবণ, চিনি ও ফ্যাট থাকে। এই উপাদানগুলো শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে স্থূলতা বৃদ্ধি পায় এবং ইনসুলিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা বাতের ব্যথাকে আরও প্রভাবিত করে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
২. রেড মিট:
রেড মিট খেতে যতই সুস্বাদু হোক না কেন, বাতের সমস্যা থাকলে এটি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। কারণ এই মাংসে ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অতিরিক্ত রেড মিট খেলে শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়ে। এর ফলে জয়েন্টের ফোলাভাব এবং বাতের ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।
৩. ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড:
উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যেখানে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, সেখানে ওমেগা-৬ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ সৃষ্টিকারী। আর্থ্রাইটিসের রোগীদের জন্য ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত ওমেগা-৬ গ্রহণ করলে শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়। সয়াবিন তেল, বাদাম, মাংস, ভুট্টা এবং সূর্যমুখী তেলের মতো খাবারে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।
৪. লবণ:
আমাদের শরীরের জন্য লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। তবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে, সেগুলো বাতের ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই বাতের সমস্যা এড়াতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
৫. চিনিযুক্ত পানীয়:
তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পানীয় পান করে থাকি। তবে সব পানীয় শরীরের জন্য উপকারী নয়। কোল্ড ড্রিংকস, ফলের রস, চিনিযুক্ত চা এবং অন্যান্য মিষ্টি পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, চিনিযুক্ত পানীয় বাতের ব্যথা বাড়াতে কাজ করে। তাই বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে চিনিযুক্ত পানীয় পান করার অভ্যাস কমাতে হবে।
৬. ভাজাপোড়া:
যাদের বাতের সমস্যা রয়েছে, তাদের ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এই ধরনের খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই দুটি ফ্যাট শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করার পাশাপাশি বাতের ব্যথাও বাড়িয়ে তোলে।