ওজন কমাতে চাইলে এই পাঁচটি ভুল নৈব নৈব চ! বিস্তারিত জানতে পড়ুন

ওজন কমানোর জন্য একেবারে উঠে-পড়ে লেগেছ, খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে, প্রচুর ওয়র্কআউট করে এক্কেবারে সাংঘাতিক কাণ্ড শুরু করেছ! কিন্তু এক সপ্তাহ পর দেখলে, ওজন যে-কে-সেই। ব্যস, মনখারাপ। ভাবছ, পুরো পরিশ্রম জলেই যাচ্ছে। তুমি যতই তোমার অতিরিক্ত ফ্যাটগুলোকে ছাড়তে চাও, তারা কিছুতেই তোমাকে ছেড়ে যেতে নারাজ! আরে, এত ছটফট করলে হবে? তার চেয়ে চটপট দেখে নাও, ওজন কমাতে গিয়ে এই পাঁচটি ভুল করছ না তো?
ক্যালোরির মাত্রা হুট করে অনেকটা কমিয়ে দিয়ো না: দৈনন্দিন কাজকর্ম করার জন্য আমাদের শরীরের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরির প্রয়োজন হয়৷ যদি ক্যালোরির পরিমাণ ছাঁটতে-ছাঁটতে সেই মাত্রার নীচে চলে যাও, তা হলে কিন্তু শরীরে মেটাবলিজ়মের হারও ক্রমশ কমতে থাকবে৷ তখন তুমি যতই ব্যায়াম করো না কেন, শরীর ফ্যাট জমিয়েই রাখবে, সেটাকে বার্ন হতে দেবে না৷ ক্যালোরি ইনটেকের মাত্রা একেবারে কমিয়ে দিলে মাসল কমতে থাকে, বেরিয়ে যেতে থাকে শরীরে সঞ্চিত জল ও সেই সঙ্গে জমিয়ে রাখা পুষ্টিগুণও৷ তাই প্রতিদিন অন্তত ১২০০ ক্যালোরি তোমাকে গ্রহণ করতেই হবে।
কোনও মিল বাদ দেওয়া যাবে না: ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, বিকেলের জলখাবার আর ডিনার— হ্যাঁ, এই প্রত্যেকটা মিল খেতেই হবে, কোনওটাই বাদ দেওয়া যাবে না। মিল বাদ দিলে রোগা হবে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং উলটোটাই হয়। নির্ধারিত সময়ে খাবার না পেলে শরীরে নানা ধরনের মেটাবলিক চেঞ্জ আসে, ফলে পেট ও তার আশপাশে মেদ জমতে আরম্ভ করে৷
কোনও ফুড গ্রুপ যেন বাদ না পড়ে: রোজের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রত্যেকটা সঠিক পরিমাণে রাখতেই হবে৷ অনেকেই নিশ্চয়ই তাড়াতাড়ি ওজন কমবে ভেবে ভাত, রুটি একেবারেই বাদ দিয়ে দিয়েছ? তাদের মনে রাখতে হবে, কার্বোহাইড্রেট না খেলে শরীর তো বটেই, মস্তিষ্কের কার্যকলাপেও কিন্তু বাধা সৃষ্টি হয়৷ এমনকী তেলও তোমার ত্বক, চুলের সুস্থতা ও শরীরের নিয়মিত কাজকর্মের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়৷ কোনও একটা ফুড গ্রুপ বাদ দিলেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়বে৷ তাতে ওজন আচমকা বেড়েও যেতে পারে৷
পর্যাপ্ত ঘুমও ভীষণ প্রয়োজন: ঘুমের সময় কমিয়ে দিয়ে ওর্য়কআউট করতে যেয়ো না, তাতে হিতে বিপরীত হবে। আরও বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়বে, অসুস্থ হয়ে পড়ারও চান্স থেকে যাবে৷ শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের পরিমাণ বাড়বে, আর তার ফলেই বাড়বে ওজন৷ ঠিক সময়ে ঘুমোতে না গেলে যখন-তখন খিদে পাবে, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পরিমাণও বাড়বে৷ ঘুম কম হলেই কমবে তোমার মাসলের পরিমাণ৷
ক্র্যাশ ডায়েট করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়: ক্র্যাশ ডায়েট করলে শুরুর দিকে ওজন হয়তো খানিকটা কমবে, কিন্তু কিছুদিন পরই আবার তা ফিরে আসবে আগের অবস্থাতেই৷ কম খেয়ে বা না খেয়ে থাকলে ওজনে স্বাভাবিকভাবে কিছু পরিবর্তন আসবেই, কিন্তু ভিতরে-ভিতরে তো তুমি দুর্বল হয়ে পড়বে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে৷ ডিহাইড্রেশন, প্যালপিটেশন বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়ে যাবে৷