চারদিকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়েছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীদের বড় অংশ শিশু। মশার কামড়ের শিকার হয় শিশুরাই বেশি। মশা থেকে শিশুদের বাঁচাতে বাড়ির বড়দের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
স্বভাবতই নিজের খেয়াল নিজেরা রাখতে পারে না। শিশুরা খেলাধুলা, টিভি দেখা কিংবা খাওয়ার সময় ওই কাজটি নিয়ে মগ্ন থাকে। আর এ সময়ই মশা কামড় দেয় শিশুদের। তাই বাবা-মা কিংবা বাড়ির অন্যদের দায়িত্ব হবে বাড়ির ছোট্ট সদস্যটি যেখানে বসে টিভি দেখবে কিংবা খেলাধুলা করবে ওই জায়গাটিতে যেন কোনো মশা না থাকে সেই ব্যবস্থা করা।
প্রাথমিকভাবে মশা মারার ব্যাট ব্যবহার করে মশা তাড়ানো যেতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব ও দামে সাশ্রয়ী। তবে এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পরপরই এই কাজ করতে হবে। কয়েল কিংবা অ্যারোসল স্প্রে করে নিতে পারেন। তবে কয়েল কিংবা অ্যারোসল যথাসম্ভব কম ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। কেননা, এগুলো শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করে।
শিশুকে মশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ওপরের এই পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে সকলেই পরিচিত। আপনি হয়তো ভাবছেন এসব তো রোজই করি তবুও তো বাচ্চাকে মশা কামড়ায়। ওপরের পদ্ধতিগুলোতেও কাজ না হলে বিশেষ কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করে মশার হাত থেকে শিশুকে বাঁচানো যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই পদ্ধতিগুলো।
তেল ব্যবহার : মশার কামড় থেকে বাঁচতে শরীরে তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। নারিকেল তেল, নিমের তেল কিংবা সরিষার তেল শিশুর শরীরে মেখে দিতে হবে।
নারিকেল তেল এবং নিমের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে শরীরে মাখতে পারেন। তেলের গন্ধে মশা শরীরের আশপাশে কম আসবে। তেলের সঙ্গে কর্পূরের গুঁড়ো কিংবা ন্যাপথলিন ব্যবহার করতে পারেন। এসবের তীব্র গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। এতে করে মশা সহজেই দূর করা যাবে।
মশারোধক ক্রিম : মশা তাড়াতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম পাওয়া যায়। এগুলো মাখলে শরীরে মশা কামড়াতে আসে না। শিশুদের শরীরের অনাবৃত স্থানগুলোতে এই ক্রিমগুলো লাগিয়ে দিতে পারেন। যেকোনো ওষুধের দোকানে কিনতে পাবেন। কাপড়ের ওপর এবং সরাসরি চামড়ায় দুভাবেই ব্যবহারের ঔষধ পাওয়া যায়।
দিনে মশারি ব্যবহার : শুধু ঘুমানোর সময় নয় বরং দিনেও মশারি ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। শিশুকে বিছানায় বসিয়ে খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়া বা অন্যান্য কাজের সময় মশারি টাঙিয়ে দিন। এতে করে একদম সুরক্ষিত থাকবে।
দ্রুতগতিতে ফ্যান ব্যবহার : শিশু যেখানেই থাকবে সেখানেই দ্রুতগতিতে ফ্যান চালিয়ে রাখুন। ফ্যানের বাতাসের গতিতে মশা ভারসাম্য রাখতে পারে না। এক্ষেত্রে টেবিল ফ্যান কিংবা স্ট্যান্ড ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের ফ্যানগুলো সাধারণত জোরে বাতাস দেয়।
পোশাকে পরিবর্তন : শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় এমন ধরনের পোশাক পরিয়ে দিন যাতে শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে থাকে। অনেকেরই হয়তো মনে প্রশ্ন জাগছে এই গরমে এমন ধরনের পোশাক অস্বস্তিদায়ক হবে শিশুর জন্য। এক্ষেত্রে সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিয়ে দিন। যাতে একই সঙ্গে মশা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং গরমও কম অনুভূত হয়। পা ঢেকে রাখতে জুতা পরিয়ে রাখতে হবে। কাপড়ের হালকা জুতা পড়ানো যেতে পারে। যা গরমে শিশুর জন্য আরামদায়ক হবে।
খেলাধুলার ক্ষেত্রে সতর্কতা : বাচ্চারা খেলার সময় যেন ঝোপঝাড় কিংবা নর্দমার আশপাশে না যায় খেয়াল রাখতে হবে। ঝোপঝাড় কিংবা নর্দমাগুলোই মূলত মশার প্রধান বিচরণকেন্দ্র। তাই এসব স্থান থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখতে হবে।