স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বড় সুযোগ! সাজা খাটার পাশাপাশি এবার টাকা রোজগার করতে পারবেন আসামিরা।

অপরাধের শাস্তি পেতে হলেও মানুষকে যাতে পুরোপুরি সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে না হয়, সেই কথা মাথায় রেখেই এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করল ঝাড়খণ্ড সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে রেখে এবার সেমি-ওপেন বারাক সিস্টেম বা উন্মুক্ত সংশোধনাগার ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। এর ফলে জেলবন্দি আসামিরাও নির্দিষ্ট নিয়মে জেলের বাইরে গিয়ে কাজ করার এবং টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের প্রধান চারটি সেন্ট্রাল জেল—রাঁচির বিরসা মুন্ডা সেন্ট্রাল জেল, হাজারিবাগের জয়প্রকাশ নারায়ণ সেন্ট্রাল জেল, পূর্ব সিংভূমের ঘাঘীডীহ্ সেন্ট্রাল জেল এবং দুমকা সেন্ট্রাল জেলকে এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই জেলগুলির কয়েদিদের কাজের সুযোগ পাওয়া অনেকটাই সহজ হবে।
প্রাথমিকভাবে সমস্ত বন্দিকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। জেলের অন্দরে ভালো আচরণ এবং নিয়মানুবর্তিতার ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত কয়েদিদের বেছে নেওয়া হবে। তাঁরা সকালের দিকে বাইরে কাজে বেরিয়ে যাবেন এবং সবমিলিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা জেলের বাইরে কাটিয়ে সন্ধের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নিয়মে আবার ফিরে আসবেন সংশোধনাগারে।
সরকারের মূল লক্ষ্য কী?
সরকারের এই নতুন ভাবনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো, বন্দিরা যাতে জেলজীবন শেষ করে যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন, তখন যেন তাঁদের হাতে কিছু সঞ্চয় থাকে এবং তাঁরা সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করার পাশাপাশি অপরাধের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলার এক সোনালী সুযোগ করে দিচ্ছে ঝাড়খণ্ড প্রশাসন।