চা না কফি—খাবারের ঠিক পরপরই কোনটি খাওয়া বিপজ্জনক? চিকিৎসকদের এই সতর্কতা না মানলেই পস্তাবেন!

আমাদের দেশে দুপুরের বা রাতের ভারী খাবারের পর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা কিংবা কফি যেন ক্লান্তি দূর করার অব্যর্থ মহৌষধ। কেউ হয়তো তৃপ্তি করে খাওয়ার শেষে চায়ে চুমুক দেন, আবার কেউ বিকেলের আলস্য কাটাতে কফির ওপর ভরসা করেন। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, এই সুস্বাদু অভ্যাসটিই আপনার হজমশক্তি বা পুষ্টি শোষণের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে?

অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত চা-কফি নিরাপদ হলেও, সামান্য ভুল অভ্যাসে এটি বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে খাবারের ঠিক পরপরই চা বা কফি পানের অভ্যাস শরীরে আয়রন শোষণের গতি মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।

চা ও কফি যেভাবে আয়রনে বাধা দেয়

চা এবং কফি উভয়ের মধ্যেই ক্যাফেইন এবং পলিফেনলের মতো কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরের পুষ্টি শোষণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে চারে থাকা বিশেষ উপাদান উদ্ভিদজাত খাবার (যেমন- ডাল, শিম ও সবুজ শাকসবজি) থেকে প্রাপ্ত ‘নন-হিম আয়রন’ (non-haem iron) শোষণের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

‘আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা রয়েছে, চা পানের ফলে তাদের ক্ষেত্রে আয়রন শোষণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমতে শুরু করে।

কখন চা বা কফি পান করা উচিত?

আপনি যদি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন এবং সুষম খাবার খান, তবে খাওয়ার পরপরই চা-কফি খাওয়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তার প্রয়োজন নেই। তবে যাদের শরীরে আগে থেকেই আয়রনের ঘাটতি রয়েছে বা যারা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানা জরুরি:

  • সময়ের ব্যবধান রাখুন: আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর চা বা কফি পান করার অভ্যাস করুন।

  • সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে সাবধান: এনএইচএস (NHS)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, যাঁরা ফেরাস সালফেট বা আয়রনের ওষুধ খান, তাঁদের ওষুধ খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি খাওয়া উচিত।

  • চিনির মাত্রা কমান: চা বা কফিতে অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা অবিলম্বে কমান, বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, চা নাকি কফি—তা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সহ্যক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। তবে শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে খাবার ও চা-কফি পানের মাঝে উপযুক্ত সময়ের ব্যবধান বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।