কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা কিনছেন না তো? আসল গাছপাকা কলা চেনার সহজ উপায় জেনে নিন

বাজারে গেলে কাঁঠালি, মর্তমান, সিঙ্গাপুরি বা চাঁপা— কলার রকমারি রূপ দেখে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। স্বাদ, গন্ধ ও আকারে এদের একেকটির বৈশিষ্ট্য একেক রকম। অভিজ্ঞ বাজারিরা চট করে জাত চিনতে পারলেও সাধারণ ক্রেতাদের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— পুষ্টিগুণের বিচারে কোন কলা সবচেয়ে এগিয়ে? আর কোন কলা খেলে পেট ফাঁপা বা অম্বলের সমস্যা বাড়তে পারে?
বিজ্ঞান বলছে, কলার জাতের চেয়েও বড় কথা হলো কলাটি কতটা পেকেছে এবং সেটি যিনি খাচ্ছেন তাঁর হজমশক্তি কেমন।
পুষ্টির বিচারে কোন জাতটি সবচেয়ে এগিয়ে?
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, মর্তমান, কাঁঠালি কিংবা সিঙ্গাপুরি— কোনো নির্দিষ্ট একটি জাতকে এককভাবে ‘সেরা’ বলা যায় না। সব ধরনের কলাই পুষ্টিতে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন B6, যা শরীরের পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে কলা যত পাকতে শুরু করে, তার ভেতরের শ্বেতসার বা স্টার্চ তত শর্করায় রূপান্তরিত হতে থাকে। ফলে কলা পাকা হলে তা বেশি মিষ্টি ও নরম হয়ে ওঠে।
হজমের জন্য কোন কলা আদর্শ?
যাঁদের পেটের সমস্যা বা দুর্বল হজমশক্তি রয়েছে, তাঁদের জন্য পুরোপুরি পাকা ও নরম কলা খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। একটু শক্ত বা আধপাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ বেশি থাকায় তা হজম হতে সময় নেয় এবং অনেকের পেটে অস্বস্তি বা গ্যাস তৈরি করতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে: খুব বেশি পেকে যাওয়া কলায় শর্করার মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিস রোগীদের অতিরিক্ত পাকা কলা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
সিঙ্গাপুরি কলা খেলেই কি অম্বল হয়? এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। কোনো নির্দিষ্ট জাতের কলা খেলেই যে সবার অম্বল হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি ব্যক্তির নিজস্ব হজমক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। কারও সিঙ্গাপুরি কলা হজম করতে সমস্যা হতেই পারে, তবে তা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়।
কোন কলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে?
কাঁঠালি, চাঁপা, মর্তমান বা সিঙ্গাপুরি— কোনো জাতকেই স্বাস্থ্যবিরোধী বলা যায় না। তবে অনেকের অভ্যাস থাকে বেশি পেকে যাওয়া বা খোসায় কালো দাগ ধরে যাওয়া বাসি কলা নষ্ট হওয়ার ভয়ে চটকে মুড়ি বা চিড়ে দিয়ে খেয়ে ফেলা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসটি অবিলম্বে ত্যাগ করা উচিত। অতিরিক্ত পচে যাওয়া বা বাসি কলা খেলে পেট ফাঁপা, বদহজম এবং গ্যাসের সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
কার্বাইডে পাকানো বিষাক্ত কলা চিনবেন কীভাবে?
আজকাল বাজারে দ্রুত ফল পাকাতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। কলার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
চেনার উপায়: কলার খোসা যদি অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ দেখায় এবং তাতে যদি কলার স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধ না থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটি কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয়েছে।
কেন বিপজ্জনক? ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI) ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। কারণ এই রাসায়নিক থেকে নির্গত অ্যাসিটিলিন গ্যাসে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে, যা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে।
অবশ্য অনেক সময় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ইথিলিন গ্যাস দিয়েও কলা পাকানো হয়। তবে স্বাস্থ্য ও স্বাদের দিক থেকে গাছপাকা ফলের বিকল্প কিছু হতে পারে না। তাই বাজার থেকে কলা কেনার সময় বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে দেখে-শুনে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।