স্লেজিংয়ের জালে ১৫ বছরের বিস্ময় বালক! মেজাজ সামলাতে কেন বৈভবকে প্রয়োজন ‘স্পেশাল ট্রেনিং’?

বিশ্বক্রিকেটের নয়া সেনসেশন, ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাট হাতে মাঠ কাঁপানো এই বিস্ময় বালকের নাম এখন সবার মুখে। তবে সাফল্যের শিখরে ওঠার যাত্রাপথ যে কন্টকমুক্ত নয়, তা আবারও প্রমাণ হলো শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচে। বিপক্ষ দলের স্লেজিংয়ের মুখে পড়ে মেজাজ হারালেন বৈভব, জড়িয়ে পড়লেন শারীরিক সংঘর্ষে। আর এই ঘটনাই এখন ক্রিকেট মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পণ্ডিতদের মতে, একজন ব্যাটার হিসেবে বৈভবের উত্থান যত দ্রুত হচ্ছে, ততই তিনি প্রতিপক্ষের মূল টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। স্লেজিং বা ট্র্যাশ-টকিং এখন আধুনিক ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বৈভবকে শিখতে হবে ‘সিচুয়েশন ম্যানেজমেন্ট’।
বিখ্যাত স্পোর্টস মনোবিজ্ঞানী ডাক্তার স্বরূপ সাভানুর, যিনি বছর দুয়েক আগে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে (NCA) বৈভবের সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তিনি এই বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করেছেন। ডাক্তার সাভানুর বলেন, “বৈভব ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত শান্ত এবং লাজুক স্বভাবের। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ আলাদা। বিসিসিআই ও এনসিএ বর্তমানে স্পোর্টস সাইকোলজির ওপর জোর দিচ্ছে। রাহুল দ্রাবিড় থাকাকালীন আমরা বহু হাই-পারফরম্যান্স ক্যাম্পে কাজ করেছি, যা এখন নিয়মিত অভ্যাস। তবে বৈভবের মতো প্রতিভাবানদের ক্ষেত্রে সাধারণ ট্রেনিংয়ের চেয়েও বেশি প্রয়োজন তার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং।”
সাভানুরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে সিনিয়র পর্যায়ে পৌঁছানোর পর অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই হারিয়ে যান। প্রতিভা, টেকনিক বা ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও ‘ইমোশনাল কন্ট্রোল’ বা মানসিক দৃঢ়তার অভাবেই তারা ব্যর্থ হয়। ভারতীয় ক্রিকেট এখন এক সন্ধিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, অশ্বিনদের মতো মহীরুহদের উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়ায় বৈভব সূর্যবংশী প্রথম সারিতে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই জাতীয় দলে ডাক পেয়ে প্রমাণ করেছেন নিজের জাত। তবে শুধু ব্যাট হাতে রান করলেই হবে না, বিশ্বমানের ক্রিকেটার হতে হলে মাঠের উত্তাপ সামলে মাথা ঠান্ডা রাখার শিল্পটিও আয়ত্ত করতে হবে বৈভবকে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যদি এখনই বৈভবের মানসিক বিকাশে মনোবিদদের সাহায্য নেওয়া না হয়, তবে বারবার স্লেজিংয়ের ফাঁদে পড়ে তার ক্যারিয়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি এখন বৈভবের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা।