পঞ্চমীর দিনে প্র্যাকটিস বয়কট ইস্টবেঙ্গলের! বকেয়া বেতনের মেগা জট কাটতেই যা ঘটল লাল-হলুদ শিবিরে

অবশেষে সমস্ত অনিশ্চয়তা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুশীলনে ফিরল ঐতিহ্যবাহী লাল-হলুদ ব্রিগেড। ঠিক গতকাল অর্থাৎ দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর আনন্দমুখর আবহে যখন গোটা শহর উৎসবে মেতেছে, তখন বকেয়া বেতন না পাওয়ার ক্ষোভে পঞ্চমীর দিন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। নির্দিষ্ট সময়ে খেলোয়াড়দের পাওনা অর্থ মেটাতে না পারায় তাঁরা অনুশীলনে নামতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। দলের অন্দরে এই আচমকা প্র্যাকটিস বয়কটের খবরে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় ভারতীয় ফুটবল মহলে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে কাটল সেই আর্থিক বরফ।
উল্লেখ্য, আইএসএলের গত মরসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন স্পনসর পাওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। নানাবিধ আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাবাসের শিষ্যরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে কড়া টক্কর দিয়ে ডুরান্ড কাপের ট্রফি ঘরে তুলেছে। কিন্তু স্পনসরজনিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ক্লাবকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা করে ফেলছে। প্রশ্ন উঠছে, এভাবেই কি চলতে থাকবে দল পরিচালনা? সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকালের দিকে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোরালো থাকলেও বিকেলের মধ্যেই সেই জট অনেকটাই কেটে যায়। ক্লাবের হাতে আনুমানিক চার কোটি টাকার মতো তহবিল থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সঠিক সময়ে খেলোয়াড়দের অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।
এই খবর চাউর হতেই লাল-হলুদ কর্তারা দ্রুত আসরে নামেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে সমস্ত প্রযুক্তিগত ও ব্যাংকিং জটিলতার অবসান ঘটান কর্তারা। এরপরই ফুটবলারদের বকেয়া বেতন সরাসরি তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের এই দ্রুত হস্তক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দল ম্যানেজমেন্ট। আগামী রবিবার চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে আইএসএলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে ইস্টবেঙ্গল। ঠিক তার আগে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ক্লাব কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও আপাতত স্বস্তি ফিরেছে তাঁবুতে। কোচ হাবাসের মূল লক্ষ্য এবার ঘরের মাঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে আইএসএল ট্রফি ধরে রাখা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সাময়িকভাবে এই জট কাটলেও ভবিষ্যতে এই ধরণের ব্যাংকিং বা স্পনসর সংকট স্থায়ীভাবে কীভাবে এড়াবে ক্লাব? সঠিক উত্তর নেই কারও কাছে।