‘কাগজে-কলমে বিদেশি থাকলেই ম্যাচ জেতা যায় না!’ আল-শোর্তা ম্যাচের আগে হুংকার লাল-হলুদ কোচের!

প্রায় এক মাস আগে জর্ডানের মাটিতে ভিনদেশি ডিফেন্ডার ও স্ট্রাইকার ছাড়াই বিদেশি ব্রিগেডহীন ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে দুর্দান্ত ড্র উপহার দিয়েছিলেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তবে মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু-এর (ACL Two) দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের মাঠ যুবভারতীতে আল-শোর্তা (Al-Shorta) চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার আগে পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও হাবাস বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলে সদ্য যোগ দেওয়া আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ড আকে লোবা এবং পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার লুকাস জুলিনস্কি স্কোয়াডে থাকলেও, মাত্র নয় দিনের অনুশীলনের পর তাঁদের ওপর অন্ধ ভরসা করতে নারাজ লাল-হলুদ হেডস্যার। বরং আল-শোর্তার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্বদেশি ভারতীয় ফুটবলারদের ঘিরেই নিজের মূল রণকৌশল সাজিয়েছেন তিনি।
গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ইরাকের আল-শোর্তা দলে সাতজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন হাবাস। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কাগজে-কলমে ক’জন বিদেশি রয়েছে তা দিয়ে ফুটবল হয় না। মাঠে নামলে লড়াইটা এগারো বনাম এগারো জনেরই হয়। আমাদের ভারতীয় ফুটবলাররাও যথেষ্ট দক্ষ এবং বিদেশিদের সমকক্ষ।” ডার্বি হারের ক্ষত এবং প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার মতো অজুহাত দিতে নারাজ লাল-হলুদ কোচ। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, ঘরের মাঠের পরিবেশ এবং যুবভারতীর চেনা গ্যালারির সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে প্রথম মিনিট থেকেই তিন পয়েন্টের জন্যই ঝাঁপাবে তাঁর দল।
অন্যদিকে, দলের ভরসাযোগ্য লেফট-ব্যাক জয় গুপ্তার কণ্ঠেও শোনা গেছে আত্মবিশ্বাসের সুর। গত বছর এই দুর্গাপুজোর সময়েই ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়ে এই যুবভারতেই নিজের অভিষেক গোল পেয়েছিলেন তিনি। আল-শোর্তাকে সমীহ করলেও জয় আত্মবিশ্বাসী যে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাদের রয়েছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে ঘরের মাঠে লাল-হলুদ ব্রিগেড দারুণভাবে কামব্যাক করবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
বিপক্ষের তিউনিশিয়ান কোচ সামি ত্রাবেলসি অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে যথেষ্ট শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক দল হিসেবে মেনে নিলেও জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না। তিনি জানিয়েছেন, “ইস্টবেঙ্গল দলগতভাবে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং তাদের স্কোয়াডে একাধিক বিপজ্জনক খেলোয়াড় রয়েছে। তবে আমরা এখানে ড্র করতে আসিনি, পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেতেই মাঠে নামব।” ডার্বি হারের দুঃখ ভুলে এশিয়ান মঞ্চে ঘুরে দাঁড়াতে লাল-হলুদ সমর্থকরা এখন তাকিয়ে যুবভারতীর এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের দিকে।