SIR আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা মালদায়! ভোটার তালিকায় বাবার নাম ভুল থাকায় কীটনাশক খেলেন যুবক

ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়ানোর জেরে এবার মালদায় এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। পরিবারের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভুলে তৈরি হওয়া আতঙ্কের কারণেই হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ আলি (২৭) নামের ওই শ্রমিক শুক্রবার রাতে বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুল তথ্যের জের
রাজেশের আত্মীয় তফিজুল ইসলাম জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রাজেশের বাবার নাম আদিল মহম্মদ ছিল, যা আধার ও ভোটার কার্ডে সঠিক ছিল। কিন্তু নতুন ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজেশের নাম ঠিক থাকলেও, তাঁর বাবার নামের জায়গায় ভুলবশত ‘রাজেশ আলি’ লেখা হয়েছে। এই ভুল নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে রাজেশ চিন্তিত ছিলেন। তার ওপর গ্রামের কিছু লোক তাঁকে ভুল বুঝিয়ে বলতে শুরু করে যে এই ভুল থাকলে ‘বাংলাদেশে চলে যেতে হবে’। এই আতঙ্কেই তিনি বিষ খেয়েছেন। তফিজুল ইসলামের দাবি, ভোটার তালিকায় ভুলের দায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি সরাসরি বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বলেন, “বিজেপি সরকার এসআইআর নিয়ে যে চক্রান্ত করেছে তার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে অনেক লোক মারা গিয়েছে। এসআইআর আতঙ্কেই রাজেশ বিষ খেয়েছে।”

তজমুল হোসেনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গাজোল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মণ পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, “শুনলাম, রাজেশ আলি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তজমুল সাহেব যা বলছেন তাতে আমি হতবাক। তিনি এসআইআর আতঙ্কে ভুগছেন, কারণ ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁর ভোট ব্যাঙ্ক নষ্ট হতে চলেছে। তিনি ভাবছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বিজেপির সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র নিজের বা বাবার নাম ভুল থাকার জন্য কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন বলে আমি মনে করি না। স্বচ্ছ ভোটার তালিকার জন্যই এসআইআর।”