NEET কাণ্ড: বারবার আটকে গেলেও কেন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতেই হলো ধর্মেন্দ্র প্রধানকে?

প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের জেরে উত্তাল দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের মুখে দু’বার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু প্রতিবারই তা নাকচ করে দিয়েছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল পদত্যাগ নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং কাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা। তবে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে গত শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

পদত্যাগের আড়ালে কোন কৌশল ছিল সরকারের?

সূত্রের খবর, গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত শীর্ষ মন্ত্রিসভার এক বৈঠকেও ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় দল ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে দায়িত্বে থেকেই শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সরকারি সূত্রের দাবি, শীর্ষ মহলের ধারণা ছিল— মন্ত্রীর পদত্যাগ করাটা কেবলই দায়িত্ব এড়ানোর সবচেয়ে সহজ পথ। পরিবর্তে তাঁকে সমস্যা টিকিয়ে না রেখে কাজের মাধ্যমে ব্যবস্থার সংস্কারের সুযোগ দেওয়া উচিত।

তাহলে হঠাৎ কেন এই পটপরিবর্তন ও ইস্তফা?

সূত্রের দাবি, ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর গোটা পরিস্থিতি মূল্যায়নে বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। কারণ, ওই সংগঠনটি ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির মতো আরও একটি তীব্র এবং বৃহৎ মিছিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু ছাত্র আহত হওয়ায় সরকার আগে থেকেই যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে ছিল।

নেপথ্যে কি তবে ভিনদেশী ষড়যন্ত্র?

গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্ট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। রিপোর্টে দাবি করা হয়, কিছু দেশবিরোধী শক্তি এই ছাত্র আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে অপব্যবহারের চেষ্টা করছে।

  • ডিজিটাল নজরদারি: নজরদারিতে ৪০০-রও বেশি সন্দেহভাজন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

  • ভারতবিরোধী অপপ্রচার: অভিযোগ উঠেছে, এই অ্যাকাউন্টগুলি ভারতে ছাত্র আন্দোলনকে আরও উস্কে দিতে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছিল। এমনকী, এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনও এই অ্যাকাউন্টগুলি সক্রিয় থেকে ভুয়ো প্রচার চালিয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় সুরক্ষাই প্রধান অগ্রাধিকার

দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের মাধ্যমে গত ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যন্তর মন্তরের আশপাশ থেকে প্রায় ৪০০ জন ক্রিমিনাল রেকর্ডধারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০ জুলাইয়ের ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকার প্রমাণ মেলে।

CJP-র সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের পর সরকার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, রাজনৈতিক চাপের মুখে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যন্তর মন্তর এলাকার তীব্র উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।