“৭৫ বছর বয়স, আর না দাঁড়ানোই ভালো!” মমতাকে রাজনীতি থেকে অবসরের মোক্ষম পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বুধবার রাজ্য বিধানসভায় শপথ নিলেন বিজেপির দুই নব-নির্বাচিত বিধায়ক। আর সেই অনুষ্ঠান থেকেই নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার নজিরবিহীন পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একইসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে দুই কোটি টাকার সুপারি কাণ্ড নিয়ে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের দিকে স্পষ্ট আঙুল তুললেন তিনি।

বিধানসভায় শপথ ও নন্দীগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ

বুধবার বিধানসভায় রেজিনগরের নতুন বিধায়ক শাখারভ সরকার এবং নন্দীগ্রামের হাসিরানি রথ বিধায়ক হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথগ্রহণ পর্বের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে নন্দীগ্রামের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের জনগণকে অশেষ ধন্যবাদ। তাঁরা অভিমান করে আমাকে বলেছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আমি বলেছি, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন, তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। তবে এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো ওঁর। প্রায় ৭৫ বছর বয়স হলো, এখন ওঁর বিশ্রাম নেওয়ার কথা।”

‘খালি হাতে বাটি নিয়ে পাঠাতে হবে’

তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করার ধরণ এখানেই থামেনি। সম্প্রতি হলদিয়ার পুরভোটের প্রস্তুতি সভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে শুভেন্দু বলেছিলেন, “৩০টি আসনেই একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে পাঠাতে হবে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছেন আমাদের, যাতে আর ক্ষতি না করতে পারেন…।”

বিরোধীদের তোপ ও স্বচ্ছতার দাবি

আগের সরকারের জমানায় শপথগ্রহণ পর্ব আড়ালে রাখা হতো দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমস্ত প্রক্রিয়া জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে করছে।

অন্যান্য কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে দেবাংশু পাণ্ডা জিতেছেন, পুষ্পা একদম শুয়ে পড়েছিল। আর নন্দীগ্রামে একজন প্রার্থী তো মাঠ থেকেই আউট হয়ে গেলেন, অন্যজন মাত্র ৬ হাজার ভোটে সীমাবদ্ধ থেকে গেলেন!”