৭০০ ভরি সোনায় মুড়েছেন মা কালী! জেল থেকে ফিরেই অনুব্রত মণ্ডলের পুজোয় অলৌকিক কাণ্ড?

বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়ের কালীপুজো মানেই আভিজাত্য আর অগণিত ভক্তের সমাগম। তবে এবারের চমক সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭০০ ভরিরও বেশি খাঁটি সোনার গয়নায় মুড়ে ফেলা হয়েছে অনুব্রতের সাধের কালী প্রতিমাকে। দীর্ঘ সময় জেলে কাটানোর পর জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় এই পুজোয় শামিল হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। আর তার পরেই এই প্রতিমার অলৌকিক মহিমা ও দীর্ঘ ইতিহাসের কথা খোলামেলাভাবে জানালেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা।
অনুব্রতের কথায়, এই পুজোর শুরুটা কিন্তু এত আলো ঝলমলে ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বারুইপুকুরে নিজের বাড়ির ভেতরের রাস্তায় ছোট্ট করে প্রথম কালীপুজো শুরু করেছিলেন তিনি। তৎকালীন স্থানীয় ক্লাবের দাদাদের উৎসাহেই পুজোটি পরবর্তীতে বাইরের পরিসরে নিয়ে আসা হয়। সময়ের সাথে সাথে আজ সেই ঐতিহ্যবাহী পুজোর বয়স প্রায় ৬০ ছুঁইছুঁই। বর্তমানে বীরভূমের এই তৃণমূল পার্টি অফিসের পুজো রাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়।
প্রতিমার গায়ে কীভাবে এল কোটি কোটি টাকার এই বিপুল পরিমাণ সোনার অলঙ্কার? অনুব্রত জানান, তিনি জেলে থাকার সময়ও ভক্তরা নিজেদের মানত রক্ষার্থে প্রতিমাকে অকাতরে সোনা দান করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমার ধারণা ছিল জেল থেকে ফেরার পর হয়তো আর্থিক টানাপোড়েন ও অভাব বুঝতে পারব, কারণ এবার পার্টি কোনো সাহায্য করতে পারেনি। কিন্তু মায়ের কৃপায় এক ফোটাও অভাব অনুভব করতে হয়নি। কিছুই জোগাড় করতে হয়নি, সব নিজে থেকেই হয়ে গিয়েছে।”
শুধু বিপুল সোনার সাজই নয়, এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ এর রাজকীয় ভোগ। অনুব্রত জানান, চিরাচরিত নিয়ম মেনে মায়ের ভোগে থাকে খাসির পাঁঠার মাংস, খিচুড়ি, বাঁধাকপির তরকারি, ৯ রকমের ভাজা, পায়েস ও চাটনি। পবিত্র কালীপুজো ও দীপাবলি উপলক্ষে যখন তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা থেকে শুরু করে নলহাটির নলাটেশ্বরী ও ত্রিপুরাসুন্দরীর মতো সতীপীঠগুলো আলোর রোশনাই ও ভক্তদের সমাগমে ঝলমল করছে, ঠিক তখনই অনুব্রত মণ্ডলের ৭০০ ভরি সোনায় মোড়া কালীর রূপ গোটা রাজ্যজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।