রামভক্তদের রক্তের হিসাব চাই! অযোধ্যা প্রবেশের আগে ক্ষমা চাওয়ার চরম হুঁশিয়ারি যোগীর!

অযোধ্যা সফরে আসার আগে রামভক্ত ও সাধুসন্তদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে! উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এই এক হুঁশিয়ারিতে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের আগামী ১২ ডিসেম্বর অযোধ্যা আসার কথা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রামনগরী থেকে এমনই আক্রমণের সুর চড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দশম দীপোৎসবের মঞ্চ থেকে অখিলেশ বা তাঁর দলের নাম না নিলেও, যোগীর এই বক্তব্য সরাসরি বিরোধীদের লক্ষ্য করেই দাগা হয়েছে বলে একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অযোধ্যায় দাঁড়িয়ে মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “যারা একসময় অযোধ্যাকে চরম অবহেলা ও অপমান করেছে, রামভক্তদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এবং সাধুসন্তদের ওপর লাঠিচার্জ করিয়েছে, তারা যদি আজ অযোধ্যায় আসতে চায়, তবে আগে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে।” তিনি আরও জানান, অতীত ভুলের জন্য অনুতাপ করেই বিরোধীদের রামললার দরবারে পা রাখা উচিত।
বিরোধী নেতাদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, “যারা একদিন অযোধ্যার রাজপথ রক্তে ভিজিয়ে দিয়েছিল, তারা আজ সবকিছু ভুলে গেছে। এরা এতটাই অজ্ঞ যে ধর্মীয় আচারের ‘কথা’ আর কবিতার জমায়েত ‘মুশায়েরা’-র মধ্যকার তফাতও বোঝে না।” ভারতের জাতীয় চেতনা ও সংস্কৃতির মূলে যে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র বিরাজমান, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “শ্রীরামচন্দ্র সবাইকে গ্রহণ করেন, কিন্তু কেউ যদি মারীচের মতো ছদ্মবেশ ধরে আসে, তবে তাকে রামচন্দ্রের তীরের আঘাত সইতেই হবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে যোগী জানান, বিরোধীরা মন্থরা ও মারীচের ভূমিকা নিয়ে দেশে সন্ত্রাসবাদ ও নৈরাজ্য ছড়াতে চাইলেও অযোধ্যা আজ চার লেনের সড়ক, সৌর শহরের তকমা ও বন্দে ভারত ট্রেনের সুবাদে এক নতুন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে।